আমরা এখনো জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ পাইনি : নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর হয়েছে। আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বলেছিলাম, জুলাই গণহত্যার বিচার ও সংস্কারের মাধ্যমে আমরা একটা বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক নতুন বাংলাদেশ গঠন করতে চাই। তবে, সেই বাংলাদেশ, আমাদের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ আমরা এখনো পাইনি।
জুলাই বিপ্লবের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির প্রথম দিনে রাজধানী ঢাকার রায়ের বাজারে জুলাইয়ের শহীদদের গণকবর জিয়ারত অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন।
এসময় হাসানুল হক ইনুর রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আপনারা জানেন গতকাল ট্রাইব্যুনালের একটি বিচারের রায় এসেছে, কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই রায় বাংলাদেশের জনগণকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি এবং আমরা মনে করি সেই রায়ের মাধ্যমে আমরা যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিলাম, যারা শহীদ পরিবার, যারা আহত যোদ্ধা রয়েছেন, তারা কোনো ন্যায়বিচার পায়নি। হাসানুল হক ইনু্ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রত্যক্ষভাবে গণহত্যায় মদদ যুগিয়েছিলেন। গণহত্যার যে সিদ্ধান্ত ছিল, শেখ হাসিনা যিনি প্রধান সিদ্ধান্তকারী ছিলেন, তাকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করেছেন। ফলে আমরা মনে করি তাকে যে ১০ বছর করে তিনটি মামলায় সাজা দিয়েছে, এটা যথেষ্ট নয়। আমাদের আবেদন থাকবে রাষ্ট্রপক্ষ যাতে এক্ষেত্রে আপিল করে এবং আমরা তার কঠোর থেকে কঠোরতর বিচার প্রত্যাশা করছি।
ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে দেশে এনে দ্রুত সাজা কার্যকরের দাবি জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা আশা করব যে, শেখ হাসিনাসহ জুলাইয়ের গণহত্যাকারী এবং ওসমান-হাদীর হত্যাকারী যারা ভারতে পালিয়ে রয়েছে, তাদেরকে দেশে এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে এবং শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় কার্যকর করা হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের অন্যতম দাবি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংস্কার বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন। আমরা দেখলাম এই নির্বাচনের যে গণভোট এবং নির্বাচনের অন্যতম কমিটমেন্ট ছিল কাঠামোগত সংস্কার, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ, আমরা সেই সংস্কার এখনো পাইনি। ফলে এবারের জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপন ও এর বার্ষিকী পালনে আমাদের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে গণহত্যার বিচার এবং সংস্কার বাস্তবায়ন।
জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ফারহান ফায়াজ, রিয়া গোপসহ জুলাইয়ের যে ১৪০০ শহীদ এবং যারা আহত রয়েছেন, জুলাই যোদ্ধা যারা রয়েছেন, তাদেরকে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে যে অসংখ্য, অগণিত বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ রাজপথে নেমে এসেছিল—পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা, মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা—আমরা তাদেরকে স্মরণ করছি। আমরা স্মরণ করছি শ্রমিক ভাই ও বোনদের, নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষেরা- যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেমে জীবন দিয়ে এই গণঅভ্যুত্থানকে সফলকাম করেছিল। এবং আমরা স্মরণ করছি আমাদের নারী সমাজকে। আমরা স্মরণ করছি আমাদের পেশাজীবী যারা, আমাদের যারা শিক্ষক, অভিভাবক, সাংস্কৃতিক কর্মী, আমাদের আলেম সমাজ, আমাদের সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা, আইনজীবীসহ যারা বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষকে যারা এই গণঅভ্যুত্থানে নেমে এসেছিল। এবং আমরা স্মরণ করছি আমাদের প্রবাসী ভাই ও বোনদের, যারা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে, মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে যারা আন্দোলন করেছিল, বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশের বাইরে বিদেশি অনেক বন্ধুরা আমাদেরকে সহযোগিতা করেছিল। সাবেক সেনা কর্মকর্তা, সেনাবাহিনীতে তরুণ কর্মরত অফিসাররা যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন, আমরা তাদেরকে স্মরণ করছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা যেখানে যেভাবে যেখান থেকে আমাদেরকে এই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছেন, সহযোগিতা করেছেন, আমরা তাদেরকে স্মরণ করছি।

নিজস্ব প্রতিবেদক