সৌদিতে বিস্ফোরণে দগ্ধ রেমিট্যান্স যোদ্ধা ইব্রাহীমের চিকিৎসায় প্রয়োজন ৫০ লাখ টাকা
জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে গিয়ে বৈদ্যুতিক শটসার্কিটের বিস্ফোরণে গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার এক প্রবাসী যুবক। দীর্ঘদিন সৌদি আরব ও দেশে চিকিৎসা করিয়েও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৫০ লাখ টাকা, যা জোগাড় করা অসহায় পরিবারের পক্ষে অসম্ভব।
ভুক্তভোগী মীর ইব্রাহীম ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের খারদিয়া গ্রামের জিহাদ আলী মীরের ছেলে।
ইব্রাহীম মীর প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে যান। সেখানে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় তিন বছর পর দেশে ফিরে বিয়ে করেন। এরপর পুনরায় কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার মাত্র ১৭ দিন পর গত ৭ জানুয়ারি কাজ করার সময় বৈদ্যুতিক শটসার্কিটের ভয়াবহ বিস্ফোরণে তার মুখমণ্ডল ও দুই হাত মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়। দীর্ঘদিন সৌদি আরবে চিকিৎসা নেওয়ার পর চলতি বছরের ১০ এপ্রিল দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফিরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গিয়ে ইতোমধ্যে প্রায় ২২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে ভারতে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন। এজন্য প্রয়োজন আরও প্রায় ৫০ লাখ টাকা।
ভুক্তভোগী ইব্রাহীম বলেন, ‘কাজ করতে গিয়ে মুহূর্তের মধ্যে আমার জীবনটাই বদলে গেছে। অনেক কষ্ট আর যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটছে। চিকিৎসার জন্য আমাদের যা ছিল সব শেষ হয়ে গেছে। এখন আর কোনো উপায় নেই। আমি সরকার, প্রবাসী ভাই ও দেশের বিত্তবান মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন করছি। সবার সহযোগিতা পেলে হয়তো আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব।
ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, ভুক্তভোগী যুবককে সরকারি সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে তার চিকিৎসা ব্যয় অনেক বেশি। তাই সরকারি সহযোগিতার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।
ইব্রাহীম ও তার পরিবার সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহযোগিতার পাশাপাশি দেশের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং মানবিক মানুষের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। তাদের বিশ্বাস, সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় ইব্রাহীম উন্নত চিকিৎসা নিয়ে আবারও সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর