সাঁতার শেখাতে গিয়ে পুকুরে ডুবে হাফেজ মামা-ভাগ্নের মৃত্যু
বরগুনার বামনা উপজেলায় ভাগ্নেকে সাঁতার শেখাতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে মামা ও ভাগ্নের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার (২৭ জুন) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ আমতলী গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—উপজেলার পূর্ব সফিপুর গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে ওবায়দুল (৯) এবং তার আপন মামা হাফেজ তালিমুল ইসলাম (২১)। তালিমুল ইসলাম পবিত্র কোরআনের একজন হাফেজ ছিলেন। তাদের এই আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে ভাগ্নে ওবায়দুলকে সাঁতার শেখানোর উদ্দেশ্যে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে নিয়ে যান মামা তালিমুল ইসলাম। সাঁতার শেখানোর একপর্যায়ে ওবায়দুল আচমকা পুকুরের গভীর পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। ভাগ্নেকে ডুবতে দেখে তাকে বাঁচাতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে পানিতে ঝাঁপ দেন মামা তালিমুল। কিন্তু ভাগ্নেকে উদ্ধারের প্রাণপণ চেষ্টা করতে গিয়ে একপর্যায়ে নিজের পরনের কাপড়ের সাথে হাত-পা পেঁচিয়ে গেলে তালিমুল নিজেও গভীর পানিতে তলিয়ে যান।
এদিকে দীর্ঘক্ষণ পার হয়ে গেলেও ওবায়দুল ও তালিমুলের কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের লোকজনের দুশ্চিন্তা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে পুকুরঘাটে তাদের জামাকাপড় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের মনে গভীর সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে এলাকাবাসী পুকুরে নেমে তল্লাশি চালিয়ে দুজনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। এরপর তাদের দ্রুত বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে হাসপাতালের কর্তব্যরত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. তুহিন হাওলাদার পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার অনেক আগেই পানিতে ডুবে শ্বাসরোধে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ দুটি ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মাহমুদুর রহমান, বরগুনা (পাথরঘাটা-তালতলী)