৪২ জাতের দেশীয় ফল নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব
‘করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস’ -এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মধুমাসের রঙ, স্বাদ ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে নওগাঁর বদলগাছীতে আয়োজন করা হয়েছে এক ব্যতিক্রমধর্মী ফল উৎসব।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা কৃষি অফিসের হলরুমে এই ফল উৎসবের আয়োজন করে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, কৃষক, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
উৎসবস্থলে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে সারি সারি দেশীয় ফলের সমারোহ। নাকফজলি আম, কাঁঠাল, লিচু, কালোজাম, জামরুল, পেয়ারা, আতা, সফেদা, করমচা, বেল, আনারসসহ প্রায় ৪২ জাতের মৌসুমি ফল দিয়ে সাজানো হয় আকর্ষণীয় এই প্রদর্শনী। প্রদর্শনীতে প্রতিটি ফলের পুষ্টিগুণ, উৎপাদন পদ্ধতি ও অর্থনৈতিক গুরুত্বও দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা হয়। বইয়ের পাতায় দেখা ফলগুলো একসঙ্গে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়ে উৎসবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা উচ্ছাস প্রকাশ করে।
উপজেলা কৃষি অফিসার সাবাব ফারহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ উদ্দিন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রুহুল আমিন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাদি চৌধুরী টিপু, উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন নাজমুল হোসেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ডিজিএম প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার প্রমুখ।
আয়োজকেরা জানান, বিদেশি ফলের প্রতি বাড়তি ঝোঁকের কারণে আমাদের অনেক সুস্বাদু দেশীয় ফল এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। শিশু-কিশোরদের মধ্যে ফলভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং পুষ্টি সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই আয়োজন। উৎসবে ফলের স্থায়ী বাজার সৃষ্টি ও দীর্ঘমেয়াদে কীভাবে ফল সংরক্ষণ করা যাবে, সেসব বিষয়ে উপস্থিত কৃষকদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বদলগাছী উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া ফল এবং বিভিন্ন ফসল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বিশেষ করে ধান, আম, কাঁঠাল ও সবজি উৎপাদনে এ অঞ্চলের কৃষকেরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। ফলভিত্তিক এই কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে কৃষকদের সব ধরনের কারিগরি ও সরকারি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তারা।

মিঠু হাসান, নওগাঁ (বদলগাছী-মহাদেবপুর)