পুশ-ইন ঠেকাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে আনসার-ভিডিপি
ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক জোরপূর্বক বাংলাদেশে মানুষ ঠেলে দেওয়ার (পুশ-ইন) চেষ্টা প্রতিরোধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে এবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (আনসার-ভিডিপি)।
আজ শনিবার (৬ জুন) আনসার-ভিডিপির সদর দপ্তর থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক জোরপূর্বক বাংলাদেশে মানুষ ঠেলে দেওয়ার (পুশ-ইন) চেষ্টায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে। এই অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে এবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (আনসার-ভিডিপি)। শুক্রবার (৫ জুন) থেকে জেলার স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকাগুলোতে অস্থায়ী ভিত্তিতে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, সীমান্তের ভৌগোলিক অবস্থান ও চোরাপথগুলো সম্পর্কে স্থানীয়দের ধারণা সবচেয়ে বেশি থাকে। এই কৌশলকে কাজে লাগিয়ে রাজশাহী রেঞ্জ আনসার-ভিডিপির পরিচালকের নির্দেশনায় এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কমান্ড্যান্টের তত্ত্বাবধানে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় এলাকা সম্পর্কে ভালো ধারণা রয়েছে—এমন ৩৩ জন দক্ষ আনসার ও ভিডিপি সদস্যকে বিজিবির সঙ্গে সরাসরি সীমান্ত চৌকিতে (বিওপি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আনসার-ভিডিপির সদর দপ্তর জানায়, ভোলাহাট উপজেলার চানশিকারী, চামুংগা, ভোলাহাট, গিলাবাড়ি, চরধরমপুর, সুরানপুর, পোলাডাঙ্গা ও খড়গপুর বিওপি। গোমস্তাপুর উপজেলার বাংগাবাড়ি বিওপিতে তারা বিজিবির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দায়িত্ব পালন করছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিবগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়নগুলোতে নেওয়া হয়েছে ভিন্ন কৌশল। সেখানকার ইউনিয়ন আনসার দলনেতা ও আনসার কমান্ডাররা ইতোমধ্যে নিকটবর্তী বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডারের সঙ্গে সাক্ষাত করে জরুরি যোগাযোগের নম্বর বিনিময় করেছেন। সীমান্ত এলাকায় যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধি দেখা মাত্র বা বিজিবির ডাক পাওয়া মাত্রই আনসার-ভিডিপি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধে যোগ দেবেন।
এতে আরও বলা হয়, প্রতিবেশী দেশ থেকে পুশ-ইনের আশঙ্কায় গত কয়েকদিন ধরেই সীমান্তে বাড়তি উত্তেজনা কাজ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোতায়েনকৃত আনসার-ভিডিপি সদস্যরা বিজিবির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে তথ্য সংগ্রহ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি রুখে দিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছে।
আনসার-ভিডিপির সদর দপ্তর জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে গত ২২ মাসে বর্তমান মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদের নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় বাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টায় প্রশিক্ষণ এবং সংস্কারের মাধ্যমে পেশাদারিত্ব ও সক্ষমতার নতুন দিগন্তে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। দেশ এবং মানুষের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের প্রয়োজনে যেকোনো দায়িত্ব পালন করতে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। এই পদক্ষেপ তারই অংশ।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক