পুশইন প্রতিরোধের মধ্যেই সীমান্ত পেরিয়ে ৭ জন প্রবেশের অভিযোগ
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইন ঠেকাতে যখন কঠোর অবস্থানে ছিল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ঠিক তখনই একই সীমান্ত এলাকার অন্য একটি গোপন পয়েন্ট দিয়ে সাতজন ব্যক্তি অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের জোরালো দাবি, গত শুক্রবার (৫ জুন) গভীর রাতে ভারতীয় সীমান্ত থেকে বিএসএফের সহায়তায় তাদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়। তবে চাঞ্চল্যকর এই পুশইনের ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কিংবা স্থানীয় পুলিশের কাছে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তের ১৪০ নম্বর মেইন পিলারের ৪ এস সাব-পিলার সংলগ্ন অরক্ষিত এলাকা দিয়ে চারজন পুরুষ ও তিনজন নারীসহ মোট সাতজন ব্যক্তি রাতের আঁধারে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, রাতের তীব্র অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে তারা অত্যন্ত গোপনে সীমান্ত অতিক্রম করে এপারে চলে আসে। প্রথম দিকে ধরা পড়ার ভয়ে আশপাশের কয়েকটি বাড়িতে সাময়িক আশ্রয় নেয়। পরবর্তীতে ভোরের আলো ফোটার পর তারা বামন্দী এলাকায় চলে যায়। সেখান থেকে যার যার সুবিধামতো বিভিন্ন গন্তব্যে রওনা দেয়।
স্থানীয় ভ্যানচালক আকুববার আলী জানান, আজ শনিবার (৬ জুন) ভোরে বড় বড় ব্যাগ হাতে নিয়ে মোট ছয়জন যাত্রী তার ভ্যানে ওঠেন। দূরপাল্লার বাসে ওঠা যাবে এমন একটি কাউন্টারে যাওয়ার কথা বলেন। তাদের সঙ্গে ৩০০ টাকা ভাড়ার চুক্তি হয়। পরে তারা স্থানীয় একটি বিকাশ এজেন্ট থেকে টাকা তুলে ভ্যানভাড়া পরিশোধ করেন। কথাবার্তায় তারা নিজেদের বাড়ি গোপালগঞ্জ ও মাগুরা জেলার বলে পরিচয় দিলেও আতঙ্কে নিজেদের নাম-পরিচয় স্পষ্ট করেননি।
এছাড়া তেঁতুলবাড়ীয়া গ্রামের বাসিন্দা মাসুম আলী জানান, শুক্রবার গভীর রাতে এক অপরিচিত নারী তাদের আমবাগানে এসে আশ্রয় নিয়ে অনবরত কান্নাকাটি করছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি কেবল নিজের নাম রোজিনা বলে পরিচয় দেন।
অনুপ্রবেশের এই গুরুতর বিষয়ে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের নিয়মিত টহল ও জানামতে এই অঞ্চল দিয়ে কোনো পুশইনের ঘটনা ঘটেনি। তবে দীর্ঘ ও দুর্গম সীমান্ত এলাকার কোনো অংশ দিয়ে যদি রাতের আঁধারে গোপনে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়ে থাকে, সে বিষয়ে আমাদের কাছে এখনও কোনো অফিসিয়াল তথ্য বা রিপোর্ট আসেনি; তবে পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আজ শনিবার ভোরে তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তের ঠিক অন্য একটি অংশ দিয়ে বিএসএফ কর্তৃক আরও ছয়জনকে বাংলাদেশে পুশইনের একটি জোর চেষ্টা চালানো হয়েছিল, তবে বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসীদের তীব্র বাধার মুখে বিএসএফের সেই অবৈধ চেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর থেকেই মূলত সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করে সর্বোচ্চ সতর্কতা জোরদার করা হয়েছিল। এমন কড়া নজরদারির মধ্যেই একই সীমান্ত এলাকার অন্য একটি অরক্ষিত পয়েন্ট ব্যবহার করে সাতজনের বাংলাদেশে সফলভাবে প্রবেশের এই ঘটনাটি এখন সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর নিয়ে নতুন করে নানামুখী প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

রেজ আন উল বাসার তাপস, মেহেরপুর