ভোটে হারার একমাসের মধ্যে কেন তৃণমূলে এই ভাঙন?
বিধানসভা ভোটে হারার একমাসের মধ্যে দলীয় বিদ্রোহে কোণঠাসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবনির্বাচিত বিধায়কদের মধ্যে ৬০ জন দলনেত্রীর নির্দেশ অগ্রাহ্য করে বিধানসভায় বিরোধী নেতা হিসাবে বেছে নিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সহকারী দলনেতা হয়েছেন সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন ও শিউলি সাহা। মুখ্য সচেতক হয়েছেন আখতারুজ্জামান।
স্পিকার নতুন বিরোধী দলনেতা ও অন্যদের স্বীকৃতি দিয়েছেন। বিরোধীদের জন্য বরাদ্দ ঘরও তাদের দেওয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী নেতা হিসাবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে চেয়েছিলেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, তার সঙ্গে মাত্র ২০ জন বিধায়কের সমর্থন আছে। সম্প্রতি ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে মমতা যে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন, তাতে মাত্র আটজন বিধায়ক ছিলেন।
এত তাড়াতাড়ি এই ঘটনা কি প্রত্যাশিত ছিল? রাজ্যের সাবেক বিরোধী নেতা আব্দুল মান্নান ডিডাব্লিউকে বলেছেন, “মমতা হেরে গেলে দলটা উঠে যাবে আগেই বলেছিলাম। নীতি-ভিত্তিক রাজনীতি হচ্ছে না। এই যে এত দ্রুত দলে বিদ্রোহ, এটা অতীতে ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্তরে হয়েছে। ফলে নজির আছে।”
তবে আব্দুল মান্নান মনে করেন, “এটা এখানে খুবই দৃষ্টিকটূভাবে হলো। খুব স্বাভাবিকভাবে বিজেপি এই পরিস্থিতির সুবিধা নেবে। পশ্চিমবঙ্গে এই নীতিহীন রাজনীতি, এই পরিমাণ দুর্নীতি, কাউকে সম্মান না দেওয়া সব মমতার অবদান। সিপিএমও এতটা করেনি। অহঙ্কারের পতন হয়েছে। দুর্নীতির জন্য এই অবস্থা। তৃণমূল চুরি করে শেষ করে দিয়েছে। সব নিয়োগে ঘুষ। এত চুরির রাস্তা দেখিয়েছে তারা, তাতে রাজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমার ভয় হচ্ছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী ডিডাব্লিউকে বলেছেন, “আমি শুধু নই, সমাজবিজ্ঞানের সব শিক্ষকই এটা ভাবতে পেরেছিলেন। মূলত দুটো কারণে। এই দলের আদর্শগত অবস্থান ছিল না। ক্ষমতাই ছিল একমাত্র আঠা। ক্ষমতা চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দল ভেঙে যেতে পারে, সেই আশঙ্কা ছিল। সেটাই হয়েছে। কর্পোরেট ঢঙে দল চলছিল। দলের কোনো আদর্শগত ভিত্তি না থাকার জন্য এই অবস্থা হলো।”

ডয়চে ভেলে