ফাঁকা ঢাকার উল্টো চিত্র যাত্রাবাড়ীতে, তীব্র গরমে দীর্ঘ অপেক্ষার ভোগান্তি
পবিত্র ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনেও রাজধানী ছেড়ে নাড়ির টানে গ্রামের পথে ছুটছেন হাজারো ঘরমুখো মানুষ। আজ শুক্রবার (২৯ মে) ঈদের পরদিন হওয়ায় রাজধানীর ভেতরের বেশিরভাগ সড়ক ফাঁকা ও যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, টিকাটুলি মোড় এবং গুলিস্তানসহ আশপাশের এলাকায় তৈরি হয়েছে তীব্র যানজট। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাস, যাত্রীবাহী লোকাল বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির অতিরিক্ত চাপের কারণে এসব এলাকায় যানবাহন চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে।
আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে এসব এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মহাসড়কে ওঠার মুখে শত শত যানবাহন দীর্ঘ সময় ধরে ঠায় আটকে আছে। তীব্র গরম আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা জটলায় পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নারী, শিশুসহ সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
পারিবারিক কারণে কিংবা ঢাকায় কোরবানি শেষ করে আজ যারা গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন, তারা এই আকস্মিক যানজটে পড়ে বিপাকে পড়েছেন।
কুমিল্লার উদ্দেশ্যে মায়ামি পরিবহণের একটি বাসে পরিবার নিয়ে রওনা দেওয়া আরশাদ আহমেদ বলেন, আমরা পরিবার নিয়ে ঢাকাতেই থাকি এবং এখানে ব্যবসা করি। কোরবানিও ঢাকায় দিয়েছি। আজ গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি বৃদ্ধ বাবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে। কিন্তু যাত্রাবাড়ীতে এসে দীর্ঘ যানজটে আটকে আছি। গরমে ছোট বাচ্চারা খুব কষ্ট পাচ্ছে।
একই পরিস্থিতি সায়েদাবাদ থেকে যশোরগামী বাসের যাত্রী তরিকুল ইসলামেরও। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ভাবছিলাম ঈদের দ্বিতীয় দিনে রাস্তায় গাড়ির চাপ কম থাকবে এবং স্বস্তিতে যেতে পারব। কিন্তু এখানে এসে দেখি পুরো উল্টো অবস্থা। কয়েক কিলোমিটার রাস্তা পেরোতেই ঘণ্টার ওপর সময় লেগে যাচ্ছে।
স্বামীর সঙ্গে চট্টগ্রামে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা দেওয়া ফারজানা মাহমুদা জানান, ভিড় এড়াতে সকালে বের হলেও সায়েদাবাদ মোড়ে এসে তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসে বসে থাকতে হচ্ছে।
যাত্রাবাড়ী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাকিব হাসান বলেন, ঈদের সময় প্রতি বছরই এই এলাকায় যানজট হয়। কিন্তু এবার ঈদের দ্বিতীয় দিনেও রাস্তায় গাড়ির এত চাপ থাকবে তা ভাবিনি। সাধারণ মানুষের রাস্তায় বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে।
টিকাটুলি এলাকার বাসিন্দা শারমিন আক্তার জানান, বাসা থেকে গুলিস্তান যেতে স্বাভাবিক সময়ে যেখানে ১৫ মিনিট লাগে, আজ সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগেছে।
পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের আগে যারা নানা কারণে ঢাকা ছাড়তে পারেননি এবং যারা ঢাকায় কোরবানি সম্পন্ন করেছেন, তারাই মূলত আজ উৎসবের দ্বিতীয় দিনে গ্রামের বাড়ি ছুটছেন।
এশিয়া লাইনের বাসচালক রহমান মিয়া বলেন, ঈদের দিনও রাস্তায় অনেক যাত্রী ছিল, আজ ছুটির দিনেও যাত্রীর চাপ ব্যাপক। কুমিল্লা বা দেশের অন্য প্রান্ত থেকে ঢাকায় লোক কম এলেও ঢাকা থেকে মানুষ গ্রামে যাচ্ছে বেশি। ফলে সায়েদাবাদ টার্মিনাল ও যাত্রাবাড়ী মোড়ে এসে গাড়িগুলো আটকে যাচ্ছে।

শুভ্র সিনহা রায়