দেনমোহর আদায়ের পদ্ধতি ও নীতিমালা তৈরি নিয়ে হাইকোর্টের রুল
বিয়ের কাবিননামায় ধার্যকৃত দেনমোহর আদায়ের পদ্ধতি ও নীতিমালা তৈরি করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ সোমবার (১৩ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুল জারি করেন।
আইন সচিব, নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার।
রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার বলেন, ‘বিয়ের কাবিননামার আইন আপডেট করা দরকার। কেননা বিয়ের সময় কাবিননামায় উল্লেখিত দেনমোহর থাকলেও অনেক সময় দেখা যায়, ডেভোর্স ছাড়া স্বামীরা দেনমোহর পরিশোধ করেন না। স্ত্রীরা সংসার করায় ওই অর্থ আদায় করেন না। স্বামী মারা যাওয়ার পর দেনমোহর পরিশোধ করা হয় না। এ ছাড়া দেখা যায়, বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়, সমসাময়িক মানুষের জীবনমানের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে। যদি ২০ বছর আগে নির্ধারণ করা এক লাখ টাকা, ২০ বছর পর এক লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়; তাহলে জীবনমান অনুযায়ী সেটা সঠিক হবে না। তাই এ বিষয়ে আইনের নীতিমালা মূল্যায়ন চেয়ে রিট করেছি। শুনানিকালে হাইকোর্ট বলেছেন, ধর্মীয় রীতি বাদ দিয়ে লোকদেখানো দেনমোহর ধার্য করতে গিয়েই যত সমস্যা হচ্ছে। এ বিষয়ে ইসলামী শরিয়াহ আইনের বাইরে যাওয়া যাবে না।’
গত ৫ জুলাই বিয়ের সময় ধার্যকৃত দেনমোহর আদায়ে আদালতের পদ্ধতি ও নীতিমালা তৈরির নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।
রিটে কেন মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ১০নং ধারার অধীনে একটি ব্যাপক নির্দেশিকা প্রণয়ন ও জারি করার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়।
রিট আবেদনে আরও বলা হয়, বিয়ের তারিখের এক বছর পর প্রদত্ত দেনমোহরের মূল্যায়ন ও আদায়ের পদ্ধতি, নীতিমালা এবং উপায় নির্ধারণ করা থাকবে, যার উদ্দেশ্য হবে বিয়েতে নারীদের অধিকার ও আর্থিক স্বার্থ রক্ষা ও সংরক্ষণ করা।
এ ছাড়া মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ১০নং ধারার অস্পষ্টতা দূর করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কথা বলা হয় রিটে।

নিজস্ব প্রতিবেদক