হাসপাতালে চিকিৎসকের ওপর হামলা, ঢাকায় পাঠানো হলো এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে
শরীয়তপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ডা. নাসির ইসলাম নামে এক চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৫ মে) দিনগত রাতে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই চিকিৎসককে জরুরি ভিত্তিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পৌরসভার উত্তর বিলাসখান এলাকার পঞ্চাশোর্ধ্ব লাল মিয়া কাজী শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। পরে তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলাম তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে পাঠানোর পরামর্শ দেন। তবে ঢাকায় নেওয়ার আগেই ওই রোগীর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় চিকিৎসকের গাফিলতির অভিযোগ তুলে নিহতের স্বজন ও বহিরাগতরা ডা. নাসির ইসলামের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই চিকিৎসককে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
ঘটনার পর হাসপাতালে আহত চিকিৎসকের খোঁজখবর নিতে আসেন শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলামকে রুম থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে আনছে কয়েকজন। পরে তাকে কিল-ঘুষি মারতে দেখা যায়। নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করলেও হামলাকারীদের হাত থেকে রেহাই পাননি তিনি। একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও থামেনি হামলা। পরে তাকে হাসপাতালের বাইরে নিয়ে কয়েক দফা মারধর করা হয়। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান ওই চিকিৎসক।
চিকিৎসকের বড় ভাই নজরুল ইসলাম বলেন, আমার ভাই ৪৮তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে তিন মাস আগে চিকিৎসাসেবায় যোগ দেন। সব সময় মানুষের সেবা করার চেষ্টা করেছে। মানুষকে সেবা দিতে গিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমন হামলা খুবই ন্যক্কারজনক। একজন চিকিৎসক যদি হাসপাতালে নিরাপদ না থাকেন, তাহলে তারা কীভাবে চিকিৎসাসেবা দেবেন? আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মিতু আক্তার বলেন, ওই চিকিৎসক আমাকে জানান, একজন রোগী মারা যাওয়ার পর উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরে বিষয়টি দ্রুত পুলিশ ও ইউএনওকে জানাই। হাসপাতালে এসে দেখি চিকিৎসক নাসির ইসলামকে মাথায় গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। শতাধিক লোক এ হামলায় জড়িত ছিল। আহত চিকিৎসককে ইতোমধ্যে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
শরীয়তপুর পুলিশ সুপার রওনক জাহান বলেন, চিকিৎসকরা রোগীদের বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। তাকেই হত্যাকারী অপবাদ দিয়ে তার ওপর ন্যক্কারজনকভাবে হামলা চালানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করা হচ্ছে। ঘটনার উসকানিদাতাকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে।
শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম বলেন, এখানে যে ঘটনা ঘটেছে তার সুষ্ঠু বিচার আমরা চাই। প্রকৃত অপরাধীরা যাতে বিচারের আওতায় আসে, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কেউ যেন মিথ্যাভাবে হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়েও লক্ষ্য রাখতে হবে।

আব্দুল আজিজ শিশির, শরীয়তপুর