মহাসড়কে চলার দাবিতে থ্রি-হুইলার চালকদের সড়ক অবরোধ
মহাসড়কে চলতে বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে বাসশ্রমিক ও থ্রি হুইলার চালকদের মধ্যে হামলা সংঘর্ষের পর বরিশালে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে থ্রি-হুইলারের চালকরা। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে নগরীর সদর রোড অবরোধ করে এ বিক্ষোভ করে তারা।
পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।
আন্দালনরত থ্রি হুইলারের চালক সুমন ব্যাপারী জানান, বুধবার রাতে যাত্রী নিয়ে তাদের একটি থ্রি হুইলার রূপাতলী বাস টার্মিনাল হয়ে নগরীর বাইরে যাচ্ছিল। মহাসড়কে ওঠার আগে সেখানে থাকা বাসের শ্রমিকরা বাধা দেয় এবং তাদের উপর হামলা করে। এই ঘটনায় চার-পাঁটটি থ্রি-হুইলার ভাঙচুর করা হয়। হামলার ঘটনায় তিন-চারজন আহত হয়।
যদিও হামলা ভাঙচুরের ঘটনা অস্বীকার করেছে রূপাতলী বাস টার্মিনালের শ্রমিকরা। বাস শ্রমিক কবির হোসেন জানান, মহাসড়কে থ্রি হুইলার যাতে চলতে না পারে সেজন্য যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ও বিআরটিএর নির্দেশনা এবং উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচলে বাধা দেই। তখন থ্রি-হুইলার চালকরা জোটবদ্ধ হয়ে পরিবহণ শ্রমিকদের ওপর হামলা চালিয়ে কয়েকটি বাস ভাঙচুর করে। এরপর আমরা তাৎক্ষণিক বাস চলাচল বন্ধ করে দেই। পরে পুলশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুরোধ ও বিচারের আশ্বাসে বাস চলাচল শুরু হয়।
বুধবার রাতের এই ঘটনার বিচার ও মহাসড়কে বাধাহীনভাবে চলাচলের সুযোগ দেওয়ার দাবি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় নগরীর সদর রোডে অশ্বিনী কুমার হলের সামনে সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ শুরু করে থ্রি-হুইলারের চালকরা। এতে নগরীর প্রধান ব্যস্ততম সড়কে বন্ধ হয়ে যায় সব ধরনের যান চলাচল। প্রায় ২৫-৩০ মিনিট এভাবে সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকার পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তারপর সড়কে যানচলাচল শুরু হয়।
বরিশাল বিভাগীয় সড়ক পরিবহণ মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন, মহাসড়কে যত দুর্ঘটনা ঘটে তার শতকরা ৮০ ভাগ ঘটে থ্রি-হুইলারের জন্য। যে কারণে বহু বছর ধরেই সরকারের কাছে আমরা দাবি জানিয়ে আসছি- যাতে মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলতে না পারে। তা ছাড়া নগর পরিবহণ হিসেবে নামা থ্রি-হুইলারগুলো মহসড়কে চলাচলের কারণে বাসগুলো যাত্রী পায় না। আমরা এ থ্রিহুইলার বন্ধের দাবিতে সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়ে প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছি।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন উল ইসলাম বলেন, মহাসড়কে চলতে দেওয়াসহ কয়েকটি দাবি নিয়ে সদর রোডে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছিল থ্রি-হুইলারের চালকরা। আমরা তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল