গাজীপুরে ৫ খুনের ঘটনায় কাপাসিয়া থানায় মামলা
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে স্ত্রী, শ্যালক ও তিন মেয়েকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় কাপাসিয়া থানায় মামলা হয়েছে। নিহত শারমিনের বাবা শাহদাত মোল্লা বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন।
এদিকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নিহত পাঁচজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত গতকাল শনিবার (৯ মে) রাতেই সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভুইয়ার নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন, কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না তাসনীম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাহিদুল হক এবং জেলা প্রশাসনের দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত বেলা ২টার পর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকে। তবে নিহতদের মরদেহ গোপালগঞ্জে নেওয়া হবে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম থাকায় দ্রুত পচন ধরার আশঙ্কা বিবেচনায় জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শনিবারই পাঁচজনের ময়নাতদন্ত সম্পন্নের ব্যবস্থা করেন।
এরপর মরদেহগুলো পিকআপে পরিবহণ করা হবে জানতে পেরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গোপালগঞ্জে নেওয়ার জন্য দুটি ফ্রিজিং গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কাপাসিয়া থানায় নিহত শারমিনের বাবা শাহদাত মোল্লা বাদী হয়ে মামলা করেছেন।
মামলায় গৃহকর্তা ফোরকান মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাত পরিচয় আরও তিন-চারজনকে আসামি করা হয়।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া পলাতক। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরি গোপীনাথপুর গ্রামের মো. আতিয়ার হাসান মোল্লার ছেলে।
নিহতরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন (৩৫), তাদের সন্তান মিম (১৬), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শারমিনের ভাই রসুল (২২)।
গত শুক্রবার দিনগত রাতে ওই বাড়িতেই এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাপাসিয়া-কালীগঞ্জ সার্কেল আসাদুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, গৃহকর্তা ফোরকান মিয়াই পাঁচজনকে জবাই করে হত্যা করেছেন। তবে কীভাবে একসঙ্গে পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতদের নেশাজাতীয় দ্রব্য বা ঘুমের ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দীন জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

নাসির আহমেদ, গাজীপুর