হাওরে ধান কাটা নিয়ে কৃষি অফিসের ভুল তথ্য, ক্ষুব্ধ কৃষক-জনপ্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্যের সাথে বাস্তবতার মিল না থাকায় তীব্র ক্ষোভ ও তোপের মুখে পড়েছেন জেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওমর ফারুক। গত মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসে দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী এবং কৃষিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এক মতবিনিময় সভায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সভায় কৃষি কর্মকর্তা দাবি করেন, সুনামগঞ্জে ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। এই তথ্য উপস্থাপনের সাথে সাথেই সভায় উপস্থিত স্থানীয় সংসদ সদস্য, হাওর নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল এবং জেলা বিএনপির সদস্য আকবর আলী সরাসরি এই তথ্যের বিরোধিতা করেন। আকবর আলী মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে মন্ত্রীদের সামনেই বলেন, পাশের ‘দেখার হাওরেই’ এখনও অর্ধেক ধান পানির নিচে। আমার নিজের ধানও কাটতে পারিনি। কৃষি কর্মকর্তা কেন মিথ্যাচার করছেন?
সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুল অভিযোগ করেন, শুরু থেকেই পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি অফিস ফসল রক্ষা বাঁধ ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ভুল তথ্য দিয়ে আসছে। শুধু ‘দেখার হাওরেই’ ৯ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে, যার বড় অংশই এখন জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ি ঢলের কবলে।
সরেজমিনে আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে ‘দেখার হাওরের’ সাফাতরী অংশে গিয়ে দেখা যায়, বুক সমান ও গলা সমান পানির নিচ থেকে ডুব দিয়ে ধান কাটছেন কৃষক বিভুল মিয়া। তিনি জানান, অর্ধেক ধান এখনও পানির নিচে এবং তলিয়ে যাওয়া ধানে ২-৩ ইঞ্চি লম্বা চারা গজিয়ে গেছে।
রাবার বাড়ি এলাকার কৃষক নাসির উদ্দিন বলেন, ৩০ কিয়ার (এক কেয়ার সমান ৩৩ শতাংশ) জমির মধ্যে ১৫ কিয়ার কাটতে পেরেছি, বাকি সব ৭-৮ ফুট পানির নিচে। ওই ধানের আশা ছেড়ে দিয়েছি।
টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে নদ-নদী ও হাওরের পানি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ফলে ধান শুকানোর খলাগুলোও তলিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় স্তূপ করে রাখা ধান পচে হাওর এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। কৃষকদের দাবি, ৯০ শতাংশ ধানে চারা গজিয়ে গেলেও টিকে থাকার লড়াইয়ে সেই পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত ধানই সামান্য রোদে শুকিয়ে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন তারা।
গত মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসে দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী এবং কৃষিমন্ত্রীর সামনে সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, তাদের তথ্য মতে এখন পর্যন্ত সুনামগঞ্জে ৮০ শাতাংশ ধান কাটা হয়েছে।
অন্যদিকে, জেলা প্রশাসক (চলতি দায়িত্ব) সমর কুমার পাল জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে ধান কাটার প্রকৃত হিসাব যাচাই করা হবে। জেলায় ইতোমধ্যে ৫০ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা করা হয়েছে, যাদের তিন মাসব্যাপী বিশেষ সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে।

দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী, সুনামগঞ্জ