ঠাকুরগাঁওয়ে বাম্পার ফলনে ভুট্টাচাষিদের মুখে হাসি
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শিবগঞ্জ পারপূগী গ্রামে এখন উৎসবের আমেজ। মাঠজুড়ে সোনালি রোদে ঝকঝক করছে পরিপক্ক ভুট্টা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বিএডিসি হাইব্রিড ভুট্টা-৩ (বি-৩৩৫৫) জাতের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলন ও বাজারদর ভালো হওয়ায় লাভের মুখ দেখছে এই অঞ্চলের কৃষকরা।
আজ মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে সদর উপজেলার শিবগঞ্জ পূর্ব পারপূগী গ্রামে এই উচ্চফলনশীল জাতের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে এক মাঠ দিবস ও ‘ক্রপ কাটিং’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রায় দুই শতাধিক কৃষক অংশ নেয়।
মাঠ দিবসে কথা হয় স্থানীয় কৃষক মো. ইব্রাহিমের সঙ্গে। তিনি চলতি মৌসুমে পাঁচ বিঘা জমিতে বিএডিসি হাইব্রিড-৩ জাতের ভুট্টা চাষ করেছেন।
কৃষক ইব্রাহিম বলেন, প্রতি ৫০ শতক জমিতে এই জাতের ভুট্টা পাওয়া যাচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ মণ। আমার পাঁচ বিঘা জমিতে প্রায় ৪০০ মণের মতো ফলন হবে বলে আশা করছি। এতে খরচ হয়েছে দেড় লাখ টাকা, আর বিক্রি করতে পারব ৩ লাখ ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে দেড় লাখ টাকার বেশি লাভ থাকবে।
ওই গ্রামের আরেক কৃষক মো. আমিরুল ইসলাম জানান, তিনি ২৫ শতক জমিতে এই ভুট্টা চাষ করে ৪৫ মণ ফলন পেয়েছেন। তিনি প্রতি বস্তা এক হাজার ৬৪০ টাকা দরে বিক্রি করে প্রায় দ্বিগুণ লাভ করেছেন। আমিরুল বলেন, ‘অন্যান্য জাতের ভুট্টা যেখানে ৭০-৮০ মণ হয়, সেখানে বিএডিসির এই হাইব্রিড জাত ৯০ মণের উপরে ফলন দিচ্ছে।
তবে কৃষকদের ভাষ্য, বৃষ্টির কারণে বাজার এখনও পুরোপুরি চাঙ্গা হয়নি। বর্তমানে বাজারে প্রতি বস্তা ভুট্টা এক হাজার ৬৫০ থেকে এক হাজার ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজার পুরোদমে শুরু হলে দাম আরও বাড়ার আশা করছে তারা।
মাঠ দিবসে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএডিসির মহাব্যবস্থাপক (বীজ) মো. আবির হোসেন বলেন, কৃষকদের দোরগোড়ায় উন্নত মানের বীজ পৌঁছে দিতে বিএডিসি নিরলসভাবে কাজ করছে। হাইব্রিড ভুট্টা-৩ জাতটি কৃষকদের ভাগ্য বদলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএডিসির অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক (বীপ্রস) মোসাব্বের হোসেন রিন্টু, অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক (বীজ) মো. সেলিম হায়দার, প্রকল্প পরিচালক মো. হুমায়ন কবির এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহের অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার নাথ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিএডিসি শিবগঞ্জ উপপরিচালক মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন খান।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে জেলায় ৪৬ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে এবং খরিপ-২ মৌসুমে ২০ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। রবি মৌসুমে পাঁচ লাখ ৫৬ হাজার ৮৩০ মেট্রিক টন এবং খরিপ-২ মৌসুমে ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৯২ মেট্রিক টন ভুট্টা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাজেদুল ইসলাম বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মাটি ও আবহাওয়া ভুট্টা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষকরা এখন অধিক ফলনশীল জাতের দিকে ঝুঁকছে। বিএডিসির হাইব্রিড জাতের এই ভুট্টার ফলন আগামীতে এ অঞ্চলে আরও জনপ্রিয় করে তুলবে।

মো. আব্দুল্লাহ, ঠাকুরগাঁও (সদর-বালিয়াডাঙ্গী)