তাপপ্রবাহ, কালবৈশাখী ও ঘূর্ণিঝড় নিয়ে চলতি মাসের পূর্বাভাস
বিদায়ী এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৭৬ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাতের পর এবার মে মাসের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। চলতি মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। যার মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আজ রোববার (৩ মে) মে মাসের এই আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অধিদপ্তর।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে মে মাসে এক থেকে দুটি লঘুচাপের সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে অন্তত একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া চলতি মাসে বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টিসহ ৫ থেকে ৮ দিন হালকা বা মাঝারি ধরনের কালবৈশাখী হতে পারে। এর মধ্যে দুই থেকে তিন দিন তীব্র কালবৈশাখী ও বজ্রঝড়ের সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন : ভারত মহাসাগরে দাপট বাড়াচ্ছে পাকিস্তান, চীন থেকে পেল সাবমেরিন ‘হাঙ্গর’
আরও পড়ুন : হিজবুল্লাহর নতুন কৌশল : ‘ফাইবার অপটিক ড্রোনে’ দিশেহারা ইসরায়েল
বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও মে মাসে তাপপ্রবাহের কবলে পড়তে পারে দেশ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এ মাসে এক থেকে তিনটি মৃদু (৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বা মাঝারি (৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তবে মাসের কোনো এক সময়ে অন্তত তীব্র তাপপ্রবাহ (৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস) হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও সামগ্রিকভাবে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকার কথা জানানো হয়েছে।
মে মাসে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোতে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বজায় থাকতে পারে। তবে বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোতে সাময়িকভাবে পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। এ মাসে দৈনিক গড় বাষ্পীভবন হবে ৩ দশমিক ৫ থেকে ৫ দামমিক ৫ মিলিমিটার এবং গড় সূর্য কিরণকাল ৫ দশমিক ৫ থেকে ৭ দশমিক ৫ ঘণ্টা থাকতে পারে।
অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত এপ্রিল মাসে বৃষ্টির ধরন ছিল অত্যন্ত অস্বাভাবিক। দেশে গড়ে ১১৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও হয়েছে ১৯৬ মিলিমিটার, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।
আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা জানান, সাধারণত এই সময়ে ভারতের দিকে বৃষ্টি বেশি হয়, কিন্তু এবার বাংলাদেশে প্রায় দ্বিগুণ বৃষ্টি হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে সিলেটে—স্বাভাবিকের চেয়ে ১০৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। এছাড়া বরিশালে ১৬৯ দশমিক ৫ শতাংশ, ঢাকায় ৭৯ দশমিক ৮ শতাংশ এবং রংপুরে ৮৭ দশমিক ১ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। একমাত্র রাজশাহীতে স্বাভাবিকের তুলনায় ০.৫ শতাংশ কম বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। ২৮ এপ্রিল কিশোরগঞ্জের নিকলিতে দেশের সর্বোচ্চ ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক