তৌফিক-ই ইলাহীর জামিন শুনানি ২৬ জুলাই
চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামিন চেয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী। তার জামিন আবেদনের ওপর পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৬ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন নির্ধারণ করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
তৌফিক-ই ইলাহীর জামিন চেয়ে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
ট্রাইব্যুনালে আসামি পক্ষের আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন বলেন, আমার ক্লায়েন্ট তৌফিক-ই ইলাহী শুধু একজন উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি ১৪ দলের কেউ নন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। এরপরও তিনি এক বছর সাত মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কোনো মামলায় আসামি গ্রেপ্তারের এক বছরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দিলে জামিন পেতে পারেন। তাই তাকে জামিন দেওয়া উচিত।
এ সময় চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য শুনতে চান ট্রাইব্যুনাল। তিনি আরও সময় চান। এর মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এরপর উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আগামী ২৬ জুলাই এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
আসামি পক্ষের আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন গণমাধ্যমকে বলেন, ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হন তৌফিক-ই ইলাহী। ট্রাইব্যুনালের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় একই বছরের ২৭ অক্টোবর। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) আইনে স্পষ্ট বলা আছে, গ্রেপ্তারের এক বছরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। যদি না দিতে পারে তাহলে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়ার সুযোগ রয়েছে ট্রাইব্যুনালের। ‘প্রাইমা ফেসি’ (প্রাথমিক প্রমাণ) না থাকলে অব্যাহতিও দিতে পারেন আদালত।
তৌফিক-ই ইলাহীর আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন বলেন, এ ছাড়া উপদেষ্টার পদটি কোনো নির্বাহী আদেশের আওতায় পড়ে না। শুধু সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক কিছু উপদেশ দিয়েছিলেন তিনি। এ উপদেশ সরকার পালন করতেও পারে নাও করতে পারে।
তৌফিক-ই ইলাহীর আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন আরও বলেন, ট্রাইব্যুনাল আমাদের কথা শুনেছেন। জামিন আবেদন খারিজ করেননি। তবে পরবর্তী তারিখে আবেদনটি আমলে নিয়ে শুনবেন বলে আশা করছি।

নিজস্ব প্রতিবেদক