অনেক অব্যবস্থাপনা ও অরাজকতা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি : বাণিজ্যমন্ত্রী
এই সরকারের বয়স মাত্র দুই মাস। কিন্তু অনেক অব্যবস্থাপনা ও অরাজকতা আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি, যা আমাদের মোকাবিলা করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
আজ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদকে নিয়ে সিলেট সদর উপজেলার বাসিয়া খাল পরিদর্শন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। আগামী ২ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালটির খননকাজ উদ্বোধন করবেন।
সৌদি আরব থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানি ব্যয় দ্বিগুণ হওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অতিরিক্ত দামে কেনা জ্বালানির অভিঘাত ভোক্তাদের উপর পুরোপুরি পড়বে না।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিভিন্ন বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি খাতে দেশ জিম্মি হয়ে যায়। তা থেকে উত্তরণে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্টোরেজ নির্মাণ করবে। এ ছাড়া এলএনজি আমদানি ক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন টার্মিনাল তৈরির জন্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় টেন্ডারে যাচ্ছে।
চলমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় তেল ও গ্যাস স্টোরেজ ফ্যাসিলিটি বাড়ানো দরকার উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সব থেকে বড় সমস্যা আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনও গ্যাস নির্ভর। এই গ্যাসও আমদানি করতে হয়। দেশে মাত্র ১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হয়। আর ৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। কিন্তু অর্থের সংস্থান হলেও কিছু সমস্যার কারণে চাহিদামাফিক গ্যাস আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে লোডশেডিং বেড়েছে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিতে তেমন প্রভাব ফেলবে না দাবি করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা সতর্কভাবে ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি করেছি। যাতে জনগণের উপর বেশি অভিঘাত না পড়ে। ১৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধির ফলে একটি ট্রাক যদি ২০০ কিলোমিটার পণ্য পরিবহণ করে, তাহলে কেজি প্রতি পণ্যমূল্য ৩০ পয়সা বাড়তে পারে। এটুকু বৃদ্ধি সত্যিকার মূল্যস্ফীতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না। এ ছাড়া আশপাশের যেকোনো দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বাংলাদেশ থেকে বেশি। অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানির বাড়তি খরচের অভিঘাত যেন জনগণের ওপর না পড়ে, সেই চেষ্টা করবে সরকার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম প্রমুখ।
আগামী ২ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাসিয়া খাল খননকাজ উদ্বোধন করবেন। ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ খালের ২৩ কিলোমিটার অংশ খনন করা হবে। সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজার থেকে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পর্যন্ত চলবে খনন। এতে উপকৃত হবে প্রায় এক লাখ কৃষক। শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বাড়তি ফসল উৎপাদন হবে বলেও জানান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

সজল ছত্রী, সিলেট