‘সংরক্ষিত আসনে সংসদে যাওয়ার জন্য আমাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ঘোষণা হওয়ার পর এক দীর্ঘ ফেসবুক স্ট্যাটাসে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। তিনি জানিয়েছেন, সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার প্রস্তাব তিনি পেয়েছিলেন, তবে নিজের আদর্শিক অবস্থানের কারণে তা বিনয়ের সঙ্গে ফিরিয়ে দিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাস দিয়ে তাসনিম জারা এ তথ্য জানান।
তাসনিম জারা বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনগুলোতে দলীয় মনোনয়নের পরিবর্তে জনগণের সরাসরি ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচনের পক্ষে তিনি দীর্ঘ দিন ধরে প্রচারণা চালিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এমপি হওয়ার প্রস্তাব পাওয়ার পর ভিন্ন অবস্থান নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না।’
তাসনিম জারা তার স্ট্যাটাসে বর্তমান পদ্ধতির কাঠামোগত দুর্বলতা নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরেন—
জবাবদিহিতা: যিনি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন, তিনি ভোটারদের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন। কিন্তু দলীয় মনোনয়নে এলে কোনো নির্বাচনি এলাকা বা ভোটার না থাকায় জবাবদিহিতা থাকে কেবল দলের কাছে।
গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব: দেশের অর্ধেক নারী জনসংখ্যার প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সরাসরি নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।
ব্যক্তিগত নীতি: সংরক্ষিত আসন পদ্ধতির সংস্কারের পক্ষে তিনি নিজে স্বাক্ষর সংগ্রহ ও ক্যাম্পেইন করেছেন, তাই এই পদ্ধতিতে সংসদে যাওয়াকে তিনি নীতিবিরুদ্ধ মনে করেন।
ভবিষ্যৎ ভাবনা: গত নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তাসনিম জারা বলেন, পোস্টার-মিছিল ছাড়াই ১৯ দিনের প্রচারে ৪৪ হাজারেরও বেশি মানুষ তাকে ভোট দিয়েছিলেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘আমি যদি কখনও সংসদে যাই, আপনাদের ভোটেই যাব।’
সংসদের বাইরে থেকেও জনস্বার্থে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন ড. তাসনিম জারা।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক