গভীর রাতে আসামির স্ত্রীর ঘরে পুলিশ কর্মকর্তা, আটক করে পিটুনি
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় গভীর রাতে এক মাদক মামলার আসামির স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় মো. ইমরান হাসান (৪০) নামে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ধরা পড়েছেন। এ সময় উত্তেজিত এলাকাবাসী তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।
গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বলিভদ্রদিয়া গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ইমরান হাসান সালথা থানায় কর্মরত এবং ওই ইউনিয়নের সহকারী বিট কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানায়, বলিভদ্রদিয়া গ্রামের মাদক মামলার আসামি মেহেদী হাসানের বাড়িতে যাতায়াতের সুবাদে তার স্ত্রীর সঙ্গে এএসআই ইমরানের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শুক্রবার রাত ৩টার দিকে ইমরান সাদা পোশাকে একা ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা ঘর ঘেরাও করে তাকে হাতেনাতে আটক করে। পরে তাকে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশের একটি দল গিয়ে তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
ঘটনার এক মিনিট ১৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে দাবি করতে শোনা যায় যে, তিনি আসামি ধরতে সেখানে গিয়েছিলেন। তবে রাত ৩টার সময় কেন তিনি একা এবং সাদা পোশাকে অভিযানে গেলেন—সে প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারেননি তিনি।
অন্যদিকে, আসামি মেহেদী হাসান অভিযোগ করে বলেন, আমি মামলার কারণে প্রায়ই বাড়ির বাইরে থাকি। এই সুযোগে এএসআই ইমরান আমার স্ত্রীকে কু-প্রস্তাব দিত। তাদের আপত্তিকর আলাপচারিতার অডিও ও ভিডিও রেকর্ড আমার কাছে আছে। গতরাতে তিনি ঘরে ঢুকলে এলাকাবাসী হাতেনাতে ধরে ফেলে।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, আসামি ধরতে গিয়ে ওই এএসআই মারধরের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে রাতের আঁধারে কেন তিনি একা এবং পোশাক ছাড়া সেখানে গিয়েছিলেন, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর