ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের (মমেক) বাঘমারা ছাত্রাবাসে ঘটনাটি ঘটে।
এম-৬১ ব্যাচের ছাত্র হামিদুর রহমান (২২) ও তার সহপাঠী আসাদুল্লাহ মোয়াজের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা হয়। হামিদুর রহমান ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রোতাবের অনুসারী এবং আসাদুল্লাহ মোয়াজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, শুরুতে হামিদুর তার রুমে নিয়ে মোয়াজকে জুনিয়রদের সামনে চড়-থাপ্পড় মারেন। এর কিছুক্ষণ পর মোয়াজ রড নিয়ে এসে চা দোকানের সামনে হামিদুরকে লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালান। এতে হামিদুরের মাথা ফেটে যায়। সহপাঠীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম ও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য বাঘমারা ছাত্রাবাসে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। রাত ১০টা ৫৫ মিনিটের দিকে পুলিশ অভিযুক্ত মোয়াজকে আটক করে হেফাজতে নিয়ে যাওয়ার সময় ছাত্রাবাসের গেটে হামলার শিকার হন তিনি।
হামিদুরের পক্ষের নাফিউল নামের এক জুনিয়র ছাত্র পুলিশ বেষ্টনীর মধ্যেই মোয়াজের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে রক্তাক্ত অবস্থায় মোয়াজ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পুলিশ দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মমেক হাসপাতালের ৬ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করে। চিকিৎসকেরা বলেন, মোয়াজের আঘাত অত্যন্ত গুরুতর।
এ ঘটনার পর কোতোয়ালি থানা-পুলিশ হামলাকারী নাফিউলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে ছুটে যান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ডা. মতিউর রহমান এবং ড্যাব-এর কেন্দ্রীয় নেতা ডা. ইসহাকসহ ছাত্রদল ও কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ডা. মতিউর রহমান বলেন, ছাত্রদের গণ্ডগোলের মধ্যে আছি। কিছুক্ষণ পর পর পাল্টাপাল্টি হামলা হচ্ছে। পুলিশ এগুলো নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। আপাতত ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলব।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ছাত্রাবাস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

তানভীর হোসাইন, ময়মনসিংহ (সদর-মুক্তাগাছা)