কুমিল্লা বিভাগ ও ময়নামতি উপজেলা চাইলেন এমপি জসিম উদ্দিন
জাতীয় সংসদে কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণার জোর দাবি জানিয়েছেন কুমিল্লা- ৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) জসিম উদ্দিন। সেই সঙ্গে নিজের নির্বাচনি আসনের আওতাধীন বুড়িচংয়ের ময়নামতি ইউনিয়নকে উপজেলা ঘোষণারও দাবি জানান তিনি।
আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এ দাবি জানান এমপি জসিম উদ্দিন।
পতিত সরকারের দুই দশকের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরায় রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের কুমিল্লার মানুষের ৪২ বছরের একটি প্রাণের দাবি কুমিল্লা বিভাগ। এই কুমিল্লা বিভাগকে নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। এই সংসদে অনেক হাসি-তামাশা করা হয়েছে। কালক্ষেপণ করা হয়েছে, কিন্তু কুমিল্লার নামে বিভাগ করা হয়নি। বৃহত্তর কুমিল্লার প্রাণের দাবি—কুমিল্লা বিভাগ আমরা চাই।’
এমপি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘কুমিল্লার তিন মন্ত্রী, সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন এবং সিনিয়র সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীও কুমিল্লা বিভাগের দাবি জানিয়েছেন। আমাদের কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রাণের দাবি হচ্ছে কুমিল্লা বিভাগ।’
ময়নামতি নামে উপজেলা করার দাবি করে জসিম উদ্দিন বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানের স্মৃতিময় জায়গা হচ্ছে কুমিল্লার ময়নামতি। জিয়াউর রহমান সাহেব যখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখন আমাদের প্রবীণ নেতারা যারা ছিলেন, তাদের একটি প্রাণের দাবি ছিল ময়নামতিকে উপজেলা করার।’
কুমিল্লা শহরের যানজট নিরসনে ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে এমপি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং- ব্রাহ্মণপাড়া) অত্যন্ত অবহেলিত একটি নির্বাচনি এলাকা। ২৪-এর ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে আমাদের কুমিল্লা গোমতি নদীর পাড়ে বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ায় আমার নির্বাচনি এলাকার অবকাঠামোগত অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’
কুমিল্লা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২০ কিলোমিটার রাস্তার সংস্কার কাজ দ্রুত শুরুর দাবি জানিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্যি! একনেকে পাস হয়েছে, কিন্তু আজকের এই দিন পর্যন্ত ওই রাস্তার কাজ শুরু হয়নি। আমার বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া দুই উপজেলার সড়ক একটি। মাত্র ১০ ফুট একটি রাস্তা, কিন্তু এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত।’
এমপি জসিম উদ্দিন কুমিল্লার ময়নামতিতে একটি ইপিজেড নির্মাণের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘সেখানে ৫০ একর জমি রয়েছে, সেই জমিটা এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। এটি একসময় বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এই অধিগ্রহণ বাতিল করা হয়। এই ৫০ একর জমির ওপর একটি ইপিজেড গড়ে তোলা যায়।’

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)