জ্বালানি সংকটের বোঝা সবাইকে ভাগ করে নিতে হবে : জাহেদ উর রহমান
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের বোঝা সবাইকে ভাগ করে নিতে হবে।
আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন ডা. জাহেদ উর রহমান।
জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রত্যেকে প্রত্যেকের মতো করে এটার কিছু সংকট নিতে হবে। এ সংকট মোকাবিলায় সরকারসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
জ্বালানি সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে শিশুদের অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। বর্তমানে শিশুরা এমনিতেই মোবাইলে আসক্ত। অনলাইনে ক্লাস এ সমস্যা আরও বাড়িয়ে দেবে কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, শিশুদের মোবাইল আসক্তি এখন ঘরে ঘরে একটি বাস্তব সমস্যা। এটি ভালো নয়, এটা যেমন সত্য, তেমনি বর্তমান বাস্তবতায় কিছু ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীলতাও বেড়েছে। পরিস্থিতির কারণে স্কুলে যাতায়াতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবহণ ব্যবহার বেড়েছে, যা নিয়ন্ত্রণে আনার কথাও ভাবা হচ্ছে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সংকটটি (যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি সংকট) এতটাই বড় যে এর বোঝা সবাইকে ভাগ করে নিতে হবে। ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দ জ্বালানি প্রথমে কমানো হলেও সম্প্রতি আরও ৩০ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে। এ বরাদ্দে বাস্তবে চলা সম্ভব নয়, প্রয়োজনে ব্যক্তিগত খরচে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, শুধু সরকারি খাত নয়, ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়েও জ্বালানির ব্যবহার কমাতে হবে। অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত ও ব্যয় সীমিত করতে হবে। তবে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বাজার ও অফিস কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ না করার পক্ষেও মত দেন।
সরকার জনগণের কল্যাণেই বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে উল্লেখ করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার চায় মানুষ ভালো থাকুক, কাজ করুক, আয় করুক। তাতে ভ্যাট ও কর আদায় বাড়বে, যা আবার জনকল্যাণে ব্যয় করা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে সরকার পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ডসহ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও করছে।
সরকারি ব্যয়সংকোচন নীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, মন্ত্রীদের জ্বালানি বরাদ্দ কমানোর পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে নতুন সুবিধা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। যেমন—উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ি ঋণ সুবিধা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে প্রশাসন ও বিচার বিভাগে জ্বালানি সুবিধা কমানোর বিষয়টি এখনও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক