সংরক্ষিত নারী আসন : কুড়িগ্রামে বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে ৬ নেত্রী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন ঘিরে কুড়িগ্রামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতিতে নতুন করে গতি সঞ্চার হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন পেতে জেলার ছয়জন প্রভাবশালী নেত্রী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন, যা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহকারী নেত্রীরা হলেন—জেলা মহিলা দলের সভাপতি রেশমা সুলতানা, সহসভাপতি নাজমুন নাহার বিউটি ও শামীমা রহমান আপন, সাধারণ সম্পাদক মোসলেমা বেগম, বিএনপির কেন্দ্রীয় সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মমতাজ হোসেন লিপি এবং সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট শাহনাজ পারভীন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়ন পেতে প্রত্যেক নেত্রী জোরালোভাবে লবিং, তৃণমূলের সমর্থন আদায় এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করেছেন। এতে জেলা বিএনপিতে প্রতিযোগিতামূলক এক উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনের এই মনোনয়ন শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি দলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের ভারসাম্য, ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং সাংগঠনিক শক্তিরও এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২১ এপ্রিল। যাচাই-বাছাই ২২ ও ২৩ এপ্রিল, আপিল ২৬ এপ্রিল এবং আপিল নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ এপ্রিল এবং প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ৩০ এপ্রিল। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।
সংরক্ষিত নারী আসনে তফসিল ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর নারী নেত্রীরা প্রার্থী হতে জোরালো প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরা সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। তাই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তবে শেষ পর্যন্ত ছয় নেত্রীর মধ্যে বিএনপি কাকে মনোনয়ন দেবে, তা নিয়ে কুড়িগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা-কল্পনা তুঙ্গে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে রাজনৈতিক দল ও জোটভিত্তিক আসন বণ্টনের হিসাব অনুযায়ী, সংসদে বিএনপি ও তাদের জোট পাবে ৩৬টি, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট পাবে ১৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জোট করলে পাবে দুটি আসন।

এনামুল হক, কুড়িগ্রাম (সদর-রাজারহাট)