কক্সবাজারে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়
ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে টানা ছুটিতে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। পর্যটকদের আগমনে সৈকত ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো এখন উৎসবমুখর পরিবেশে সরগরম হয়ে উঠেছে।
ছুটির সময় ভ্রমণপিপাসু মানুষের শীর্ষ পছন্দ হিসেবে বরাবরের মতো এবারও কক্সবাজারে ভিড় জমিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকরা। ঈদের সাত দিনের ছুটিতে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে লাখো মানুষ এখানে বেড়াতে এসেছেন।
প্রতিদিন সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টসহ প্রধান পর্যটন স্পটগুলোতে দেখা গেছে উপচেপড়া ভিড়। পাশাপাশি ইনানী সৈকত, মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি, রামু বৌদ্ধ মন্দির ও মহেশখালী আদিনাথ মন্দির এলাকাতেও পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক আবদুল মাবুদ বলেন, কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবসময়ই আমাকে আকর্ষণ করে। তাই ঈদের ছুটি কাটাতে এখানে এসেছি। আরও কয়েক দিন থাকার পরিকল্পনা আছে।
পর্যটকদের আগমনে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ও চাঙাভাব ফিরেছে। বিশেষ করে শুঁটকি ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। বার্মিজ মার্কেটের এক শুঁটকি বিক্রেতা জানান, রমজানে ব্যবসা কিছুটা স্থবির থাকলেও গত কয়েক দিনে পর্যটক বাড়ায় বিক্রি বেড়েছে।
হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট মিলিয়ে পাঁচ শতাধিক আবাসিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় সব কক্ষই পূর্ণ রয়েছে। অনেক হোটেল ৩০ মার্চ পর্যন্ত অগ্রিম বুকিং পেয়েছে বলে জানিয়েছেন হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার। তিনি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের চাপ বেড়েছে। সব হোটেলই পূর্ণ রয়েছে। পর্যটকদের হয়রানি এড়াতে এবং নির্ধারিত মূল্যে সেবা দিতে মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
সি সেফ লাইফগার্ড সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন পর্যটক কম থাকার পর ঈদের ছুটিতে হঠাৎ বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমনে সমুদ্রস্নানকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমিত জনবল নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের এক কর্মকর্তা বলেন, ঈদের ছুটিতে বাড়তি পর্যটক সামাল দিতে সৈকত, হোটেল-মোটেল এলাকা ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, পর্যটকরা আমাদের শহরের অতিথি। তাদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে।

ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি)