শ্রীমঙ্গলে হাজার বছরের প্রাচীন ‘গায়েবী মসজিদ’
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নে অবস্থিত তিন গম্বুজ বিশিষ্ট ‘গায়েবী মসজিদ’ স্থানীয়দের কাছে এক অনন্য ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক নিদর্শন। প্রায় এক হাজার বছরের পুরোনো এই মসজিদটিকে ঘিরে যুগ যুগ ধরে প্রচলিত রয়েছে নানা রহস্যময় লোককাহিনী, যা আজও দর্শনার্থী ও ধর্মপ্রাণ মানুষকে টেন আনে।
স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, আনুমানিক ১ হাজার খ্রিস্টাব্দের দিকে শংকর সেনা, জিলাদপুর ও আশিদ্রোন এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষ বিলাস নদীর তীরে একটি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তারা মসজিদের জায়গা নির্ধারণ করে মাপজোখ শেষ করেন। তবে নির্মাণকাজ শুরু করার আগেই রাত নেমে আসায় সবাই বাড়ি ফিরে যান। পরদিন সকালে এলাকাবাসী এসে বিস্ময়ের সঙ্গে দেখেন, সেখানে চুন-সুরকির একটি পূর্ণাঙ্গ মসজিদ দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, রাতের অন্ধকারে জিনেরা অলৌকিকভাবে এই মসজিদটি নির্মাণ করে দিয়েছে। সেই থেকেই এটি ‘গায়েবী মসজিদ’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
মসজিদটির স্থাপত্যশৈলীতে মোগল রীতির প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। এটি কোনো প্রকার রড ছাড়াই শুধু ইট ও চুন-সুরকি দিয়ে নির্মিত। তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এই প্রাচীন স্থাপনাটি মুসলিম স্থাপত্যের এক অনন্য উদাহরণ। প্রায় ৩০ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত এই মসজিদের ভেতরে দুই কাতারে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ জন মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন।
সময়ের প্রয়োজনে প্রাচীন এই কাঠামোটি কয়েক দফায় সংস্কার করা হয়েছে। মূল নকশা ঠিক রেখে বর্তমানে মসজিদে আধুনিক বারান্দা ও ওজুখানা নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া মসজিদের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য দেওয়ালে বিভিন্ন কারুকার্য যোগ করা হয়েছে।
প্রাচীন ইতিহাস, নান্দনিক নির্মাণশৈলী আর লোককাহিনীর মিশেলে শ্রীমঙ্গলের এই গায়েবী মসজিদটি আজও পর্যটক ও ইতিহাসবিদের কাছে এক কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে।

আহাদ মিয়া, মৌলভীবাজার (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ)