ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ, ভাঙচুরের পর হাসপাতাল সিলগালা
গাজীপুরের শ্রীপুরে ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত স্বজনরা হাসপাতালে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে। আজ সোমবার (৯ মার্চ) সকালে মাওনা চৌরাস্তা এলাকার ‘লাইফ কেয়ার হসপিটালে’ এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে হাসপাতালটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ পলাতক রয়েছে।
নিহত রুমা আক্তার (২৬) শ্রীপুর পৌরসভার উজিলাব গ্রামের মানিক মিয়ার স্ত্রী।
নিহতের স্বামী মানিক মিয়া জানান, গত শনিবার প্রসব বেদনা নিয়ে রুমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে সিজারিয়ান অপারেশনের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মা ও শিশু সুস্থ আছে বলে জানালেও স্বজনদের দেখা করতে দেয়নি। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় সন্দেহবশত স্বজনরা জোরপূর্বক অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে রুমাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
মানিক মিয়ার অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ভুল ঢাকতে মৃতদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার উত্তরার হাই কেয়ার হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে পৌঁছালে চিকিৎসকরা জানান, রুমা অনেক আগেই মারা গেছেন। এরপরই লাইফ কেয়ার হাসপাতালের কর্মীরা সেখান থেকে পালিয়ে যান।
নবজাতকের ফুফু শিলা আক্তার বলেন, আমার ভাবিকে ওরা ভুল চিকিৎসা করে মেরে ফেলেছে। মারা যাওয়ার পরেও কয়েক ঘণ্টা গোপন রেখেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আমরা বার বার তাদের বিষয়ে জানতে চাইলেও তারা সবসময় এড়িয়ে গেছেন। নবজাতক শিশুর মাথায়ও কয়েকটি আঘাত রয়েছে।
লাইফ কেয়ার হসপিটালের ব্যবস্থাপক আজাহারুল ইসলাম পারভেজ মোবাইল ফোনে জানান, আশুলিয়া নারী ও শিশু কেন্দ্রের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. রাজশ্রী ভৌমিক ও অ্যানেসথেশিয়া ডা. রেজোয়ানা অপারেশনটি করেছিলেন। প্রসূতির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত লোক এসে হাসপাতালে হামলা চালায়। ভাঙচুরে হাসপাতালের কোনো আসবাবপত্র বা যন্ত্রপাতি অবশিষ্ট নেই বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনার পর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাইদুল ইসলাম হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার অভাব ছিল। বর্তমানে হাসপাতাল থেকে সকল রোগী সরিয়ে নিয়ে সেটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। নাজুক অবস্থায় থাকা নবজাতকটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
ডা. শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, নবজাতক শিশুর মাথায় কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে রোগীর স্বজনরা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসারকে তদন্ত কমিটির প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। হাসপাতালের তিনটি তলার প্রতিটি রুমে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চলছে।

আব্দুর রউফ, গাজীপুর (শ্রীপুর)