দৃঢ় স্বপ্ন আর অটল সাহস—নারীকে ইতিহাসের পথপ্রদর্শক করে তোলে : বিমানমন্ত্রী
বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, “যে স্বপ্ন একদিন নিভৃতে জন্ম নেয়, অধ্যবসায় আর সাহস তাকে একদিন আকাশের উচ্চতায় পৌঁছে দেয়—নারীর অটল মনোবলই তখন হয়ে ওঠে নেতৃত্বের নতুন ইতিহাস। দৃঢ় স্বপ্ন আর অটল সাহস—এই দুটিই নারীকে ইতিহাসের পথপ্রদর্শক করে তোলে।”
আন্তর্জাতিক নারী দিবস—উপলক্ষে গতকাল শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে এনটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আফরোজা খানম রিতা একথা বলেন।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস আফরোজা খানম রিতার কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক উদযাপন নয়; বরং নারীর আত্মমর্যাদা, সংগ্রাম ও সক্ষমতার স্বীকৃতির দিন। বাংলাদেশের নারীরা আজ শিক্ষা, প্রশাসন, ব্যবসা, রাজনীতি থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ করেছেন। তিনি নিজেকে সেই দীর্ঘ সংগ্রামের পথের একজন ক্ষুদ্র সহযাত্রী হিসেবে দেখতে চান।
নারীদের উদ্দেশে আফরোজা খানম রিতা বলেন, “নিজের স্বপ্নকে কখনো ছোট করে দেখবেন না। পথ চলার সময় বাধা আসবেই, কিন্তু অধ্যবসায়, সততা ও সাহস থাকলে সেই পথই একসময় সফলতার দিকে নিয়ে যায়। নারীরা শুধু অংশগ্রহণকারী নন; তারা নেতৃত্বও দিতে পারেন। নিজেকে দক্ষ করে তুলুন, আত্মবিশ্বাস রাখুন এবং সামনে এগিয়ে যান।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-৩ আসন থেকে রেকর্ডসংখ্যক ভোটে বিজয়ী হয়ে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আফরোজা খানম রিতা। নির্বাচনের অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। বাংলাদেশের এই গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রথম নারী মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠেন। তাঁর এই অর্জন কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; বরং দেশের নারীদের অগ্রযাত্রার এক অনুপ্রেরণামূলক অধ্যায়।
আফরোজা খানম রিতার বেড়ে ওঠা এক রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐতিহ্যের পরিবারে। তাঁর বাবা হারুনার রশিদ খান মুন্নু ছিলেন দেশের খ্যাতিমান শিল্পোদ্যোক্তা, শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক এবং একাধিকবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি বিএনপি সরকারের সময়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দেশীয় সিরামিক শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
বাবার কাছেই আফরোজা খানম রিতা শিখেছেন শৃঙ্খলা, কঠোর পরিশ্রম এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা। শিক্ষাজীবনেও তিনি ছিলেন মেধাবী। তাঁর বিশ্বাস—শিক্ষা শুধু ডিগ্রি অর্জনের বিষয় নয়; বরং এটি মানুষকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রজ্ঞা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা এবং দূরদর্শিতার পরিচয় দেয়। রাজনীতি ও নীতিনির্ধারণে এই গুণগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের রাজনৈতিক উত্থান-পতনের কঠিন সময়ে তিনি মানিকগঞ্জের তৃণমূল পর্যায়ে দলের নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন। মামলা-হামলা, রাজনৈতিক চাপ ও প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি সংগঠনকে আগলে রেখেছেন দৃঢ়তার সঙ্গে। অনেক সময় আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া, আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা কিংবা তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানবিক দায়িত্বও তিনি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। এই পথচলায় ব্যক্তিগত ও আর্থিক চ্যালেঞ্জও ছিল। দলের সংকটকালে নেতাকর্মীদের সহায়তা করতে গিয়ে তাঁর পরিচালিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানকেও অনেক সময় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। তবুও তিনি থেমে যাননি। কারণ তাঁর কাছে রাজনীতি মানে শুধু বক্তৃতা বা মিছিল নয়—মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের জীবনের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করা।
বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তাঁর কাছে শুধু একটি প্রশাসনিক পদ নয়; এটি দেশের ভাবমূর্তি ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। একটি দেশের আন্তর্জাতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ তার বিমানবন্দর, পর্যটন অবকাঠামো ও সেবার মান। এই খাতকে আধুনিক ও বিশ্বমানের করে তুলতে নিরাপত্তা জোরদার, সেবার মান উন্নয়ন এবং অবকাঠামো সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন আফরোজা খানম রিতা।
আফরোজা খানম রিতা মনে করেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে—প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির সমন্বয়ে দেশটিকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের মানচিত্রে আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। এই লক্ষ্যেই তিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন।

আহমেদ সাব্বির সোহেল, মানিকগঞ্জ