আফগানিস্তান-পাকিস্তানের চলমান উত্তেজনায় উদ্বেগ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, যুদ্ধ কারও জন্যই সুফল বয়ে আনে না।
সৌদি আরব সফর শেষে আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
দুই সার্ক সদস্যদেশের মধ্যকার বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘খুবই দুঃখজনক’ হিসেবে বর্ণনা করে খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং এখনই কোনো প্রকাশ্য বিবৃতি দেবে না।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের মতো করে দুই বন্ধুরাষ্ট্রকে বোঝানোর চেষ্টা করছি যে এ ধরনের সংঘাত কারও স্বার্থ রক্ষা করে না।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান পুনরুল্লেখ করে ড. রহমান বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন আগের মতোই অবিচল থাকবে।
এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্যদেশগুলো বিশ্বজুড়ে জোরদার প্রচার চালাবে। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের এই প্রার্থিতার বিষয়ে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর পূর্ণ এবং দ্ব্যর্থহীন সমর্থন পেয়েছি।
খলিলুর রহমান বলেন, ওআইসিভুক্ত দেশগুলো কেবল ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিই দেয়নি, বরং ঢাকার পক্ষে বিশ্বজুড়ে সক্রিয়ভাবে প্রচার চালাবে। প্রত্যাশা অনুযায়ী ফিলিস্তিন কয়েক দিন আগে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ফলে ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য এই পদে বাংলাদেশের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী এখন শুধু সাইপ্রাস।
ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর এই সাড়াকে অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক বলে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, আমরা খুবই ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। আমাদের এই সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও সফল হয়েছে। ওআইসির সাম্প্রতিক নির্বাহী সভায় অংশ নেওয়া নেতারা আস্থা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছিল। সরকার পরিবর্তনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই পদের জন্য ড. খলিলুর রহমানকে মনোনীত করেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির নির্বাচন আগামী ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হবে। সংস্থাটির কার্যবিধির ৩০ নম্বর বিধি অনুযায়ী এই নির্বাচন হবে। প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক পালাক্রম পদ্ধতি অনুযায়ী ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হবেন এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ থেকে।
২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু এবং ২২ সেপ্টেম্বর থেকে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
১৯৮৬-৮৭ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘের ৪১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক