সুদের টাকা দিতে না পারায় যুবককে হত্যার অভিযোগ
মাদারীপুরের শিবচরে সোহেল বেপারী নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের দাবি–সুদের টাকা দিতে না পারায় পাওনাদার ও তার লোকজন সোহেলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে বাড়ির পাশের গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে।
গতকাল শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবিতে উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের চান্দেরচর বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
নিহত সোহেল বেপারীর পরিবার জানায়, স্থানীয় হাসান মাদবর নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে সুদে কিছু টাকা ধার নিয়েছিলেন সোহেল। ওই টাকা পরিশোধ করতে না পারায় ইতোপূর্বে তাকে মারধরও করা হয়েছিল।
গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে একটি ফোনকল পেয়ে সোহেল বাড়ি থেকে বের হন। রাতে আর ফিরে আসেননি। পরদিন সকালে বাড়ির পাশে একটি গাছে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান স্বজনরা। খবর পেয়ে শিবচর থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর মর্গে প্রেরণ করে।
নিহতের বড় মেয়ে সুমাইয়া আক্তার অভিযোগ করে বলেন, হাসান মাদবর এলাকায় সুদের ব্যবসা করেন। পাওনা টাকার জেরে বাবাকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। বাড়ির কাছের একটি ফসলি জমিতে ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে। নিহতের দুই হাতের মুঠোয় মাটি লেগে ছিল। যা থেকে এটি হত্যাকাণ্ড বলে নিশ্চিত। পরিবার মামলা করতে চাইলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। অভিযুক্তরা বর্তমানে তাদের হুমকি দিচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) মো. সালাউদ্দিন কাদের জানান, মরদেহটি ঝুলে থাকা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে পরিবারের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এম. আর. মুর্তজা, মাদারীপুর