খাবারে বিষ মিশিয়ে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় খাবারে বিষ মিশিয়ে গৃহবধূ হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। রিনা আক্তার নামে ওই গৃহবধূর মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী পিয়াল। গতকাল বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ইফতারের পর মদন উপজেলার পাশের গ্রাম কেন্দুয়া উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কুনাপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত রিনা আক্তার মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের বাঁশুরী দুর্গাশ্রম গ্রামের জাকির মিয়ার মেয়ে। স্বামী পিয়াল মিয়ার বাড়ি কেন্দুয়া উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কুনাপাড়া গ্রামে।
পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রিনা আক্তার গার্মেন্টেসে চাকরি করতেন। পিয়ালের চাচাতো ভাই আলালের বাসায় তাদের পরিচয় হয়। সেই সুবাধে তাদের মধ্যে সর্ম্পক গড়ে উঠে। একপর্যায়ে পরিবারের সম্মতি নিয়ে তিন মাস আগে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের ১৫ দিনের পর থেকেই পিয়াল তাকে অপছন্দ করতে শুরু করেন। সিদ্ধান্ত নেন স্ত্রীকে তালাক দেবেন। এতে রীনা প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়। গতকাল ইফতারের পর মেয়েটি বিষ খেয়েছে বলে পিয়ালের বড় ভাই পিয়াস মোবাইল ফোনে রাত ১১টায় মেয়েটির বাবাকে জানান এবং কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। মেয়েটির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
মেয়েটির স্বজনরা খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে গেলে স্বামী পিয়াল ও তার পরিবারের লোকজন রিনা আক্তারের মৃতদেহ হাসপাতালের সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। তবে মেয়েটির পরিবারের দাবি সে বিষপান করে আত্মহত্যা করেনি। তাকে হত্যা করে বিষপানের নাটক সাজানো হয়েছে।
এ সংবাদ পেয়ে স্বামী পিয়ালের গ্রামের বাড়ি কুনাপাড়ায় গিয়ে জানা যায় বাড়িতে থাকা গরু-ছাগল অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে স্বজনরা। সব ঘরে তালা ঝুলানো।
মেয়েটির বাবা জাকির মিয়া বলেন, পিয়ালের বড় ভাই পিয়াস রাত আনুমানিক ১১টায় ফোনে আমাকে জানায়, আমার মেয়ে বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। এমনকি তারা কেন্দুয়ার হাসপাতালে মেয়েটিকে নিয়ে গেছে। পরে শুনলাম তারা আমার মেয়েকে ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে গেছে। সেখানে আমার আত্মীয় স্বজনকে পাঠালে আমার মেয়েকে মৃত অবস্থায় পায়। আমার স্বজনদের দেখে তারা পালিয়ে গেছে।
জাকির মিয়া আরও বলেন, আমার মেয়ে বিষ পান করেনি। তারা আমার মেয়েকে বাড়িতেই হত্যা করে বিষপানের নাটক সাজিয়েছে। বিয়ের পর থেকেই পিয়ালের পরিবারের লোকজন তাকে নানাভাবে অত্যাচার ও নির্যাতন করে আসছিল। তাকে জোড়পূর্বক তালাকও দিতে চেয়েছিল। তারা খুবই অমানুষ। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।
এ বিষয়ে পিয়ালের চাচি সাবেক ইউপি সদস্য লাকি আক্তার বলেন, আমি ইফতার করে পাশের বাড়িতে মাগরিবের নামাজ পড়তে যাই। সেখান থেকে এসে শুনি পিয়ালের বউ বিষপান করেছে। তাকে কেন্দুয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে শুনলাম মারা গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে, কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদি মাকসুদ বলেন, এমন একটি সংবাদ আমি পেয়েছি। পরে ঘটনাস্থালে পুলিশ পাঠিয়েছি। জানতে পারলাম মরদেহ ফেলে স্বামীসহ তার পরিবারের লোকজন চলে গেছে। বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভজন দাস, নেত্রকোনা