ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ঘোষণার পর বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তির ভবিষ্যৎ কী?
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত বিশ্বব্যাপী শুল্ক নীতির ওপর মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক নিষেধাজ্ঞা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এক নতুন নাটকীয় মোড় সৃষ্টি করেছে। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ট্রাম্পের 'ইউনিভার্সাল বেসলাইন ট্যারিফ'-কে অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণা করেছেন। এই রায়ের ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ এবং পোশাক খাতের ভাগ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। খবর বিবিসি বাংলার।
আদালতের রায়ে ওলটপালট ট্রাম্পের পরিকল্পনা
২০২৫ সালের শুরুতে ক্ষমতা গ্রহণের পর ট্রাম্প প্রশাসন 'ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট' ব্যবহার করে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছিল। তীব্র দরকষাকষির পর গত এপ্রিলে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের ওপর শুল্ক হার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশে আনা হয়। বিনিময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা, সয়াবিন এবং চারটি বোয়িং বিমান কিনতে সম্মত হয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে এই 'জবরদস্তিমূলক' অর্থনৈতিক পদক্ষেপ অবৈধ ঘোষিত হওয়ায় আগের চুক্তিগুলোর কার্যকারিতা এখন সংকটে।
ট্রাম্পের ‘প্ল্যান বি’ এবং ১০ শতাংশ শুল্ক
আদালতের রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অন্য একটি আইনে (ট্রেড অ্যাক্ট ১৯৭৪-এর ধারা ১২২) নতুন করে ১০ শতাংশ বিশ্বব্যাপী শুল্ক ঘোষণা করেছেন। হোয়াইট হাউসের মতে, পূর্বের চুক্তিগুলো বাতিল না হলেও শুল্ক হার বর্তমানে ১০ শতাংশে নেমে আসবে। আপাতদৃষ্টিতে এটি বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক মনে হলেও, এই আইনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র আগামী ১৫০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশের শ্রমবাজার, কর্মপরিবেশ ও পরিবেশ দূষণের মতো বিষয়গুলো তদন্ত করবে। যদি কোনো ঘাটতি পাওয়া যায়, তবে প্রেসিডেন্ট একক ক্ষমতায় এই শুল্ক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারেন।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের শঙ্কা
বাংলাদেশের নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া আগের চুক্তিটি ছিল অসম এবং শর্তগুলো ছিল অত্যন্ত কঠিন। ট্রাম্পের শুল্ক নীতি বরাবরই অনিশ্চিত, তাই ১০ শতাংশ শুল্ক কতদিন বহাল থাকবে তা বলা মুশকিল।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় বাংলাদেশের জন্য সুখবর হলেও এখনই উল্লসিত হওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে পুরনো চুক্তি নিয়ে তড়িঘড়ি আলোচনা না করে বাংলাদেশের উচিত চুপ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা। ট্রাম্প প্রশাসন এখন ১৫০ দিনের যে তদন্ত প্রক্রিয়া চালাবে, সেটির জন্য আমাদের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি—যেমন কমপ্লায়েন্স ও কাজের পরিবেশ ঠিক রাখা—জোরদার করতে হবে।”
ভবিষ্যৎ কোন পথে?
মার্কিন প্রশাসনের পরবর্তী লক্ষ্য চীনের মতো প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেও, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যের স্বার্থে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে। ১৫০ দিনের তদন্ত শেষে মার্কিন কংগ্রেসের সিদ্ধান্তই বলে দেবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ভবিষ্যৎ মার্কিন বাজারে কতটা সুসংহত থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক