‘আবহাওয়াজনিত কারণে বাড়ছে সর্দি-জ্বরের প্রকোপ’
আবহাওয়াজনিত কারণে বাড়ছে সর্দি-জ্বরের প্রকোপ। দিনের বেলা ভ্যাপসা গরম, আবার রাত নামলেই হঠাৎ ঠান্ডা। এতে নাক দিয়ে পানি পড়া, মাথা ব্যথা, গলা ব্যথা, জ্বর আর কাশিতে কাবু হয়ে পড়ছে মানুষ। দিনাজপুরের খানসামার কমবেশি প্রতিটি ঘরেই এখন এমন পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
আবহাওয়া পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে শিশু ও বয়স্কদের ওপর। কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে শুরু করে খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সবখানেই বাড়ছে রোগীর ভিড়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেকেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হয়ে এলাকার ফার্মেসিতে উপসর্গের কথা বলে ওষুধ কিনে খাচ্ছেন। কারও কারও ক্ষেত্রে এতে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, আবার অনেকেই সুস্থ হচ্ছেন না। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে—ডাক্তারের ব্যক্তিগত চেম্বারগুলোতেও লেগে আছে রোগীর উপচে পড়া ভিড়।
গৃহবধূ রহিমা খাতুন বলেন, আমার মেয়ে কয়েক দিন ধরে জ্বর–সর্দি আর কাশিতে ভুগছে। ফার্মেসি থেকে ওষুধ খাওয়ালেও জ্বর কমেনি। তাই আজ ডাক্তারের কাছে নিয়ে এলাম।
একই সুর শোনা যায় আরও অনেক ভুক্তভোগীর কণ্ঠে। তারা বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সকালে প্রচণ্ড রোদ, আবার রাতে ঠান্ডার মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে। কখনো ভ্যাপসা গরম, কখনো হালকা ঠান্ডা—এই আবহাওয়ার ধাক্কায় শরীর যেন মানিয়ে নিতে পারছে না। কেউ কেউ ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ খেলেও কাঙ্ক্ষিত উপকার পাচ্ছেন না।
মানিক নামে এক ব্যক্তি বলেন, তিন দিন ধরে জ্বর, সর্দি, মাথাব্যথা আর শরীর ব্যথায় ভুগেছি। এখন কিছুটা ভালো, কিন্তু আমার ছোট্ট বাবুটাই এখন জ্বর–সর্দিতে আক্রান্ত।
খানসামা বাজারের এক ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী পারভেজ বলেন, গত দুই–তিন সপ্তাহ ধরে সর্দি, কাশি আর জ্বরের ওষুধ বিক্রি অনেক বেড়ে গেছে। অবস্থা দেখে মনে হয়, এখন সত্যিই ঘরে ঘরে জ্বর। বেশিরভাগ মানুষ ডাক্তারের কাছে না গিয়ে সরাসরি আমাদের কাছেই আসছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়াজনিত কারণে হঠাৎ সর্দি–জ্বরের প্রকোপ একটু বেড়েছে। এতে আতঙ্কের কিছু নেই। সাধারণত প্যারাসিটামলই যথেষ্ট। অযথা দোকান থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া যাবে না। জ্বর হলে বেশি করে তরল খাবার খেতে হবে, বিশ্রামে থাকতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

মাসুদ রানা, দিনাজপুর (বীরগঞ্জ-খানসামা)