বিমানের সাবেক এমডিসহ ৪ জনকে রিমান্ডে নিতে আবেদন
শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমানসহ চারজনের বিরুদ্ধে সাত দিন রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহানের আদালতে এই আবেদন করা হয়। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) রোবেল মিয়া রিমান্ডের আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন।
এদিকে, এ মামলায় ভিকটিম গৃহকর্মী আদালতে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আবেদনে অন্য আসামিরা হলেন- এমডির স্ত্রী বিথী, বাসার অপর দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও মোছা. সুফিয়া বেগম।
এর আগে গ্রেপ্তারের পর গত ২ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কারাগারে যাওয়া অপর আসামিরা হলেন- শফিকুর রহমানের বাসার অপর দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন এবং মোছা. সুফিয়া বেগম।
মামলার নথি থেকে জানা গেছে, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের শফিকুর রহমানের বাসার নিরাপত্তাকর্মী গোলাম মোস্তফাকে জানায় যে, ওই বাসায় বাচ্চা দেখাশোনার জন্য ছোট মেয়ে খোঁজা হচ্ছে। পরে তাদের সাথে দেখা করেন গোলাম মোস্তফা। তারা জানায়, যাকে রাখা হবে তার বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহন করা হবে। তাতে সম্মত হয়ে গত বছরের জুন মাসে মোহনাকে ওই বাসায় কাজে দেন মোস্তফা। সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর ওই বাসায় মোহনাকে সুস্থ অবস্থায় দেখে আসেন তার বাবা। তবে এরপর আর মোহনাকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেননি আসামিরা।
গত ৩১ জানুয়ারি বিথী মোস্তফাকে ফোন করে জানান, মোহনা অসুস্থ ও তাকে নিয়ে যেতে। পরে মোহনাকে আনতে যান গোলাম মোস্তফা। সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোলাম মোস্তফার কাছে মোহনাকে বুঝিয়ে দেন বিথী। তখন মোস্তফা দেখতে পান মোহনার দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান গুরুতর জখম। এ সময় মোহনা ভালোভাবে কথাও বলতে পারছিল না। বিথীকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে তিনি মোহনাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। জিজ্ঞাসাবাদে মোহনা জানায়, ২ নভেম্বর মোস্তফা তার সঙ্গে দেখা করে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অকারণে শফিকুর রহমান এবং বিথীসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাকে মারধরসহ আগুনে খুন্তি গরম করে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিয়ে গুরুতর জখম করেছে।
এ ঘটনায় হোটেল কর্মচারী বাবা গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

আদালত প্রতিবেদক