কচুরিপানার দাপটে অস্তিত্ব সংকটে জৈন্তাপুরের লাল শাপলার বিল
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী লাল শাপলার বিল এখন অস্তিত্ব সংকটে। কচুরিপানার ব্যাপক বিস্তার ও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিলটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বাস্তুতন্ত্র হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’ এবং ‘সিলেট ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট’-এর একটি প্রতিনিধি দল বিলটি পরিদর্শন করে এই উদ্বেগের কথা জানান।
সিলেট কিডনি ফাউন্ডেশনের সভাপতি প্রফেসর ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি লাল শাপলার বিল এবং রাজা বিজয় সিংহের সমাধিসৌধ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে দেখা যায়, বিলের বড় একটি অংশ কচুরিপানায় ঢেকে গেছে, যা শাপলার স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধা দিচ্ছে। এছাড়া পর্যটকদের অসচেতনতা ও বিল সংলগ্ন এলাকায় রোপণ করা কিছু গাছ স্থানীয় পরিবেশের জন্য উপযোগী নয় বলেও পরিবেশবিদরা মত দেন।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, ২০১০ সালের দিকে এই বিলে প্রথম লাল শাপলার দেখা মেলে এবং ২০১৬ সাল থেকে এটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে জনপ্রিয়তা পায়। তবে পর্যটকদের জন্য এখনও এখানে ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা গড়ে ওঠেনি। পাশাপাশি ১৭৮৭ সালে নিহত জৈন্তিয়ার রাজা বিজয় সিংহের ঐতিহাসিক সমাধিসৌধটিও চরম অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে আছে।
পরিবেশবিদরা বিলের ভারসাম্য রক্ষায় হিজল, করচ, তাল ও দেশীয় ফলজ-বনজ গাছ রোপণের পরামর্শ দেন। তারা প্রশাসনের কাছে দাবি জানান যেন কচুরিপানা অপসারণ এবং রাজা বিজয় সিংহের সমাধিটি দ্রুত সংস্কার করা হয়। ‘সিলেট ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট’ থেকে জানানো হয়েছে, রাজার ইতিহাস তুলে ধরতে শিগগিরই সেখানে একটি তথ্যফলক স্থাপন করা হবে।
জৈন্তা-খাসিয়া পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই লাল শাপলার বিলটি জৈন্তাপুরের ঐতিহ্য ও পর্যটনের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। এর নান্দনিকতা ধরে রাখতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি)