দুর্নীতির মামলায় কারাগারে বিআরটিএ কর্মকর্তা
প্রায় আড়াই হাজার যানবাহনের ভুয়া রেজিস্ট্রেশন ও বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বরিশাল বিআরটিএর সাবেক সহকারী পরিচালক শাহে আলমকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিচারক শেখ ফারুক হোসেন তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর বিআরটিএ অফিসে দায়িত্ব পালনকালে মোট ২ হাজার ৩৫৮টি বাস ও ট্রাকের ভুয়া রেজিস্ট্রেশন প্রদানের অভিযোগে গত বছর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে মামলা করে। এতদিন তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিলেন। সোমবার নিম্ন আদালতে পুনরায় জামিন চাইলে আদালত তা নাকচ করে দেন।
এদিকে, সন্ধ্যায় আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় এক নজিরবিহীন ঘটনার জন্ম দেন অভিযুক্ত শাহে আলম। ছবি তুলতে গেলে পুলিশের সামনেই তিনি দৈনিক মতবাদের ফটো সাংবাদিক আব্দুর রহমানকে লাথি মারেন। এ সময় তার স্বজনরাও সাংবাদিকদের কাজে বাধা প্রদান করেন।
দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত ৮ বছরে শাহে আলমের বিরুদ্ধে বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও চট্টগ্রাম বিআরটিএ-তে কর্মরত থাকাকালীন প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে। ২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালনকালে তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে কয়েক হাজার অবৈধ গাড়ির অনুমোদন দেন। এমনকি ২০২২ সালে বরিশালে যোগদানের পর তদন্ত চলাকালীন অবস্থাতেও তিনি চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দাদের নামে অন্তত ৮৯টি অবৈধ রেজিস্ট্রেশন প্রদান করেন, যা বিআরটিএ’র আইন ও অফিস আদেশের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বেঞ্চ সহকারী কামরুল ইসলাম জানান, বিআরটিএর প্রধান কার্যালয় থেকে ইতোপূর্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও শাহে আলম তার অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন। বর্তমানে দুদকের দায়ের করা ওই দুর্নীতির মামলায় তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল