ভোটের দিন তাহাজ্জুদ পড়েই কেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিন : তারেক রহমান
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অনেকেই বলে, ফজরের নামাজ পড়ে ভোটের লাইনে দাঁড়াতে হবে। আমি বলব— এবার তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। ভোটকেন্দ্রের সামনে গিয়ে জামায়াতে ফজরের নামাজ পড়ে তারপর ৭টায় গিয়ে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে হবে। মনে রাখতে হবে— এবারের ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মাঠে নির্বাচনি সমাবেশে ভোটারদের প্রতি তিনি এ আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা দরকার, জনগণের সরকারই কেবল মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে।
বিএনপি চেয়ারম্যান প্রশ্ন রেখে বলেন, এ দেশটা কার? এই দেশ জনগণের। কারো ব্যক্তি সম্পত্তি নয়। এই সমাবেশে আমার সামনে যে হাজার হাজার মানুষ বসে আছেন, আপনারাই এ দেশের মালিক। কাজেই আপনাদেরকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে— আপনারা কীভাবে দেশ পরিচালনা করতে চান এবং ভোটের মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত আপনাদেরকে দিতে হবে।
একটি দলের লোকজন বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি নম্বর নিচ্ছে, মা-বোনদের মোবাইল নম্বর নিচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, তারা নাকি সৎ মানুষের শাসন কায়েম করবে? বিকাশ নম্বর নিচ্ছে, ফোন নম্বর নিচ্ছে, টাকা পাঠাচ্ছে, অনেকে ধরাও পড়েছে। নির্বাচনের আগে যারা মানুষকে অর্থ প্রদান করে, আগেই যারা অসৎ কাজ করে, কোনোভাবেই তাদের পক্ষে সৎ কাজ করা সম্ভব নয়। এ দেশে একমাত্র শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়া দেখিয়েছেন কীভাবে দুর্নীতি দমন করতে হয়।
তারেক রহমান বলেন, সেজন্যই বললাম, যারা এখনই মানুষকে বিকাশে টাকা পাঠায়, ভোট কিনতে চায়, নির্বাচনের আগেই যারা অসৎ কাজ করে, তারা কীভাবে সৎ মানুষের শাসন কায়েম করবে? যদি সৎ মানুষের শাসন কায়েম করতে হয়, তাহলে একমাত্র আল্লাহর রহমতে বিএনপির পক্ষেই করা সম্ভব। এই দেশে একমাত্র ধানের শীষ বা বিএনপিই মানুষের কথা চিন্তা করে।
সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এরই ভেতরে কিন্তু ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। বর্তমান সরকার প্রবাসীদের ভোটের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু, একটি রাজনৈতিক দল সবগুলো পোস্টাল ব্যালট দখলের চেষ্টা করছে। সজাগ থাকতে হবে। আগে যেভাবে ভোট ডাকাতি হয়েছে, এখন তারা ভোট দখলের চেষ্টা করছে, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেষ্টা করছে। শুধু সজাগ না, সতর্ক থাকতে হবে।
তারেক রহমান আরও বলেন, একই সাথে একটি রাজনৈতিক দল অনেক সময় বলছে অমুককে দেখেছেন, তমুককে দেখেছেন, এবার আমাদের দেখেন। ৭১ সালে লাখো মানুষের প্রাণের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছিল। সেদিন ওই রাজনৈতিক দল কাদের পক্ষ নিয়েছিল? যারা এই দেশকে স্বাধীন হতে দিতে চায়নি। এ কারণে এ দেশের বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছে, বহু নারী ইজ্জত হারিয়েছেন। নতুন করে তাদের দেখার কিছু নেই। একমাত্র রাস্তা হলো জনগণের শাসন কায়েম করা, যারা এই দেশের মানুষের কাছে জবাব দিতে বাধ্য থাকবে।
হবিগঞ্জের এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আখতার। এসময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে দুপুরে সিলেট ও সুনামগঞ্জে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। পরে মৌলভীবাজারের শেরপুরে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি শায়েস্তাগঞ্জে পৌঁছান।
দিনভর মাঠের উত্তর পাশে তৈরি করা অস্থায়ী রাস্তা দিয়ে জেলার ৯টি উপজেলা, ছয়টি পৌরসভা ও ৭৮টি ইউনিয়ন থেকে মিছিল নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা উপজেলা পরিষদ মাঠে প্রবেশ করেন। তাদের মাথায় তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত ক্যাপ, হাতে দলীয় পতাকা ও রঙিন ফেস্টুন দেখা যায়।
হাজারো নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে শায়েস্তাগঞ্জের মাঠটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। মাঠের চারপাশে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার সদস্যরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেন। পাশাপাশি গণঅভ্যুত্থানে শহীদ, আহত ও গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের জন্য মঞ্চের দক্ষিণ পাশে আলাদা একটি মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)