হাদি হত্যা : ফয়সালের সহযোগী রুবেল রিমান্ডে
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা মামলায় ফয়সাল করিম মাসুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. রুবেল আহমেদের ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই আদেশ দেন।
এর আগে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা তার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে ঢাকার কেরাণীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নথি থেকে জানা গেছে, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ পড়ে নির্বাচনি প্রচারণা শেষ করেন শহীদ ওসমান হাদি। এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে ওইদিন দুপুর ২টা ২০ মিনিটে হাদিকে বহনকারী অটোরিকশা পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌছলে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতকারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অপারেশন শেষে এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
এদিকে হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গত ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরে হাদির মৃত্যু ঘটলে তদন্ত কর্মকর্তা দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে যুক্ত করার জন্য আবেদন করেন। পরবর্তীতে আদালত তা মঞ্জুর করলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
পরবর্তীতে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন গোয়েন্দা পুলিশ। যেখানে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযোগপত্রের পরে গত ১৫ জানুয়ারি ঢাকার সিএমএম আদালতে অভিযোগপত্র নিয়ে নারাজির আবেদন করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। সেই অভিযোগপত্রের নারাজি শুনানির পরে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

আদালত প্রতিবেদক