ইসির ভোটার স্থানান্তর সংক্রান্ত তথ্যে সন্তুষ্ট নয় বিএনপি
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া ভোটার স্থানান্তর সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলটির দাবি, বিশেষ কিছু এলাকায় অস্বাভাবিক নতুন ভোটার হয়েছে এবং স্থানান্তর হয়েছে। ইসিকে যারা তথ্য সরবরাহ করেছে, তারা সঠিক তথ্য সরবরাহ করেনি।
আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
গত এক-দেড় বছরের মধ্যে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর ভোটারের মাইগ্রেশন হয়েছে অভিযোগ করে বিএনপিনেতা নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিশেষ কিছু এলাকায় অনেক নতুন ভোটার হয়েছে, যেটা অস্বাভাবিক। আগে কখনো এমন হয়নি। নির্বাচন কমিশন এই ব্যাপারে তার সংশ্লিষ্ট বিভাগে খোঁজ নিয়ে যেটা জেনেছেন বলে আমাদের জানালেন, কোনো আসনেই দুই-তিন হাজারের বেশি হয়নি। আমরা এ ব্যাপারে তাদের কথায় সন্তুষ্ট হতে পরিনি। আমরা নিশ্চিত জানি, তাদেরকে যারা তথ্য সরবরাহ করেছে, তারা সঠিক তথ্য সরবরাহ করেনি। প্রকৃতপক্ষে অনেক বেশি ভোটার মাইগ্রেশন হয়েছে।
এ ছাড়া নির্বাচনের মাঠে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরকে (বিএনসিসি) রাখার বিষয়ে ইসির নেওয়া সিদ্ধান্তের আপত্তি জানিয়ে বিএনপি বলছে, তাদেরকে যুক্ত করা হলে তারা এবং তাদের প্রতিষ্ঠান বিতর্কিত হতে পারে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনসিসির ছাত্রদের নির্বাচনি কাজে যুক্ত করার কথা বলা হচ্ছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা আমরা শুনেছি। এটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, হয়তো। আমাদের দলের পক্ষ থেকে আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি, সংসদ নির্বাচনের মতো জটিল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তরুণ ছাত্রদের সম্পৃক্ত করা ঠিক হবে না। এই কাজে যুক্ত হলে তারা এবং তাদের প্রতিষ্ঠান বিতর্কিত হতে পারে। সেজন্য বেটার হবে, যাতে তাদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত না করা হয়।
নজরুল ইসলাম আরও বলেন, যদি এটা করা হয়, তাহলে এরপরে বলা হবে—স্কাউটদেরকেও এই কাজে নিযুক্ত করা হোক। কিছুদিন পর আবার হয়ত বলা হবে, গাইডকেও যুক্ত করা হোক। আমরা মনে করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান এবং আইন অনুযায়ী যাদের নিকট এই দায়িত্ব থাকা উচিত, তাদেরকেই নির্বাচনি কাজে রাখা। তারা আমাদের কথার যৌক্তিকতা স্বীকার করেছেন এবং এ বিষয়ে তারা আলোচনা করবেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার নামে বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকায় শান্তি কমিটি গঠন করা হবে। ‘শান্তি কমিটি’ আমাদের কাছে খুব অপ্রিয় শব্দ, যদিও আমরা শান্তিবাদী মানুষ। ইসি বলেছে, তারা এ ধরনের কোনো কমিটি করার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা ইসিকে অবহিত করেছি, নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা তাদের নির্বাচনি এলাকার বাইরে, অন্য নির্বাচনি এলাকায় কাজ করছে। যদিও আইনে এটার কোনো বাধা নেই। তবে তারা যেহেতু সেই এলাকায় স্থানীয় না, সবাই তাদেরকে চেনে না। অতএব তারা যেন নির্বাচনের সময় বা নির্বাচনের দুদিন আগে সে এলাকা থেকে চলে যায়। সেখানে থেকে তারা যেন নির্বাচনি কর্মকাণ্ডে বিশৃঙ্খলা করার কোনো সুযোগ না পায়, সেজন্য আমরা অনুরোধ জানিয়েছি। এটি স্বাভাবিক একটা প্রক্রিয়া, নির্বাচনের নির্বাচনি কর্মকাণ্ড যখন বন্ধ হয়ে যায়, তারপরে যারা ভোটার না, এমন কারো থাকা স্বাভাবিক না, উচিতও না। এ ব্যাপারে ইসি ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ওয়েবসাইটে দেখলাম প্রায় হাজারেরও বেশি স্থানীয় নির্বাচনি পর্যবেক্ষক অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান পরিচিত নয়, কিন্তু তাদের নামে অনেক পর্যবেক্ষক আমরা দেখেছি। কারো বিরুদ্ধে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু আমরা ইসিকে বলেছি—তারা কি বিষয়টা গভীরভাবে বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, নাকি সাধারণ সাধারণ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে হয়ে গেছে। উনারা বলেছেন, তারা বিষয়টি পর্যালোচনা করবেন। কারণ, সব তো প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনাররা করে না।
নজরুল ইসলাম আরও বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যাদের সক্ষমতা আছে, তাদেরই পর্যবেক্ষণ করা উচিত। নির্বাচনি পর্যবেক্ষক যারা তারা ভোটকেন্দ্রে যাক, আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কারণ তারা দেখুক, ভোটকেন্দ্রে যেয়ে যে নির্বাচন কেমন চলছে কেমন হচ্ছে। কিন্তু একসঙ্গে বেশি পর্যবেক্ষক যেয়ে নির্বাচনের কর্মকাণ্ড যাতে বিঘ্নিত না হয়, এ ব্যাপারে সচেতন থাকা উচিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক