আইনজীবী আলিফ হত্যা : চিন্ময় দাসসহ ৩৯ জনের বিচার শুরু
চট্টগ্রামের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক জাহিদুল হক শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এর মাধ্যমে বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু হলো। আদালত আগামী ২ ফেব্রুয়ারি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি এসইউএম নুরুল ইসলাম জানান, মামলার তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে যে, বহিষ্কৃত ইসকন নেতা চন্দন কুমার ধর ওরফে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের প্রত্যক্ষ উস্কানি, প্ররোচনা ও নির্দেশনায় একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র পূর্বপরিকল্পিতভাবে আইনজীবী আলিফকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। আদালত মামলার এজাহার, চার্জশিট, সিসিটিভি ফুটেজ, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং আসামিদের ১৬৪ ধারায় প্রদত্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিসহ বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনা করে এই চার্জ গঠন করেন। আসামি চিন্ময় দাসের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ১০৯ ধারায় এবং অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৭, ৪৪৮, ৪৪৯, ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
আরও পড়ুন : চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার একবছর
শুনানির সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ২৩ জন আসামিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার মোট ৩৯ জন আসামির মধ্যে ১৬ জন এখনো পলাতক রয়েছেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে পিপি এসইউএম নুরুল ইসলাম ও এপিপি মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। অন্যদিকে, আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস নিজেই আদালতে ২৫ মিনিট ধরে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ১৬৪ ধারার জবানবন্দির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। মামলার বাদী ও নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন এই বিচার প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
আরও পড়ুন : রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় দাসের জামিন আপিলে স্থগিত
বাদীপক্ষের আইনজীবী সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, এটি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও চাঞ্চল্যকর মামলা, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পৃক্ত। গত বছরের ১ জুলাই এই মামলার অভিযোগপত্র গৃহীত হয়েছিল এবং গত মাসে এটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে, উপস্থাপিত প্রমাণাদির আলোকে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হবে।

আরিচ আহমেদ শাহ, চট্টগ্রাম