২০ বছর ধরে ঝুপড়ি ঘরে জাহানারার মানবেতর জীবন
কুড়িগ্রামের রৌমারী সদর ইউনিয়নের কড়াইকান্দী গ্রামে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বিধবা জাহানারা বেগম (৫০)। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে শুরু হওয়া জীবনের কঠিন অধ্যায় আজও শেষ হয়নি তার। বৃষ্টিতে পানি পড়া আর রাতে সাপ-বিচ্ছুর আতঙ্ক নিয়েই কয়েক টুকরো পলিথিন ও বাঁশের খুঁটির নিচে রাত কাটে এই অসহায় নারীর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনেক বছর আগে স্বামী হযরত আলীর মৃত্যুর পর তিন সন্তানকে চরম দারিদ্র্যের মাঝে বড় করেন জাহানারা। দুই ছেলে ও এক মেয়ের বিয়ে হলেও বর্তমানে তিনি নিঃসঙ্গ। অভাবের কারণে ছেলেরা শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন আর মেয়ে স্বামীর বাড়িতে। বয়সের ভারে শরীর ভেঙে পড়ায় এখন আর কাজ করার শক্তি নেই জাহানারার। জীবন বাঁচাতে গ্রাম ও বাজারে ভিক্ষা করেই কোনোমতে দিন পার করছেন তিনি।
জাহানারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর পানি পড়ে। রাতে সাপ-বিচ্ছুর ভয় নিয়ে থাকতে হয়। এই বয়সে কাজ করার শক্তি নেই। সরকার যদি একটা ঘর দিত, তাহলে একটু শান্তিতে থাকতে পারতাম।
প্রতিবেশীরা জানান, বর্তমান সময়েও একজন নারী এমন মানবেতর অবস্থায় থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। বৃষ্টির রাতে তার ঘর টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে তারাও দুশ্চিন্তায় থাকেন। দ্রুত তাকে সরকারি সহায়তায় একটি স্থায়ী ঘর দেওয়ার দাবি জানান এলাকাবাসী।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, জাহানারা বেগম খুবই অসহায়। আমরা মাঝে মাঝে তাকে সহযোগিতা করি। তাকে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প বা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলাউদ্দিন বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। তিনি যদি প্রকৃতপক্ষেই গৃহহীন হন, তবে দ্রুত তাকে সরকারি ঘর বা প্রয়োজনীয় সহায়তার আওতায় আনা হবে।

মাসুদ পারভেজ, কুড়িগ্রাম (চর রাজিবপুর-রৌমারী)