বাংলাদেশে ফিরে আসতে পেরে আনন্দিত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত
রাষ্ট্রদূত হিসেবে ঢাকায় ফিরতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। এই দেশের সঙ্গে তিনি ও তার স্ত্রী ডিয়ান ডাওয়ের সুন্দর স্মৃতি জড়িত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রিস্টেনসেন।
ওয়াশিংটন থেকে গতকাল সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকায় পৌঁছে এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১৯তম রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হয়।
ক্রিস্টেনসেন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারা আমার জন্য সম্মানের বিষয়। আমি আমাদের দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধিকে এগিয়ে নিতে আগ্রহী। আমার স্ত্রী এবং আমি এমন একটি দেশে ফিরে আসতে পেরে আনন্দিত, যে দেশের সঙ্গে আমাদের অনেক সুন্দর স্মৃতি জড়িয়ে আছে।’
চলতি সপ্তাহেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করার মাধ্যমে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন বলে জানা গেছে।
গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে শপথ নেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন। ওয়াশিংটনে মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল জে রিগাস তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকা মিশনে পিটার হাসের উত্তরসূরি হলেন।
এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ক্রিস্টেনসেন।
পিটার হাস ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তদশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে ২০২২ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে অবসরে যান হাস। তার অবর্তমানে এতদিন ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন।
মাকিন সিনেট গত ১৮ ডিসেম্বর ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে ঢাকায় রাষ্ট্রদূত পদে অনুমোদন দেয়।
ঢাকায় আসার আগে ক্রিস্টেনসেন গত বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আর্মস কন্ট্রোল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটিবিষয়ক মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারির দায়িত্ব পালনকারী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। এ দায়িত্বে তিনি নিরাপত্তা সহযোগিতা, নিরাপত্তা সহায়তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং অস্ত্র বিস্তার রোধে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বৈশ্বিক কার্যক্রম তদারক করেন।
মার্কিন ফরেন সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ পেশাদার সদস্য হিসেবে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের কমান্ডারের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে এবং ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে রাজনীতি ও অর্থনীতিবিষয়ক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ফিলিপাইন, এল সালভাদর ও ভিয়েতনামে যুক্তরাষ্ট্রের মিশনগুলোতেও বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে তিনি পলিটিকাল-মিলিটারি অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর অফিস অব রিজিওনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড আর্মস ট্রান্সফারসের ডেপুটি ডিরেক্টর, উত্তর কোরিয়া নীতিবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধির বিশেষ সহকারী, যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটিতে ফেলো এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোতে বাংলাদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়ার কলেজের ডিস্টিংগুইশড স্নাতক ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এ ছাড়া তিনি টেক্সাস এ এন এম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যানে স্নাতকোত্তর এবং রাইস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনা অধ্যয়ন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
ক্রিস্টেনসেন ২০০২ সালে পেশাদার কূটনীতিক হিসেবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে যোগদানের আগে হিউস্টন ও নিউইয়র্ক সিটিতে ব্যবস্থাপনা পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক