চাঁদপুরে কোটিপতির বিরুদ্ধে লাখপতির লড়াই
চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের দেওয়া হলফনামায় সম্পদের বিশাল ব্যবধান দেখা গেছে। বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন কোটিপতি হলেও তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু নছর মোহাম্মদ মকবুল আহমদ একজন লাখপতি। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামা থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
বিএনপি প্রার্থী আ ন ম এহসানুল হক মিলন দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য
পিএইচডি ডিগ্রিধারী এহসানুল হক মিলন পেশায় একজন রাজনীতিবিদ। হলফনামা অনুযায়ী, তার নিজের ও স্ত্রীর কাছে মোট চারটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে (দুটি শটগান, একটি পিস্তল ও একটি রিভলভার)। মিলনের নিজ নামে থাকা মোট সম্পদের পরিমাণ ২৭ কোটি পাঁচ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং তার স্ত্রী নাজমুন নাহার বেবির সম্পদের পরিমাণ ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় মিলনের হাতে নগদ ছিল দুই কোটি ৪৩ লাখ ৫৪ হাজার ২৩৬ টাকা এবং তার স্ত্রীর কাছে ছিল ৫৭ লাখ এক হাজার ৩৩২ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে মিলনের নামে ৬৭৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ কৃষিজমি এবং ঢাকার বনানীতে দুটি দাগে মূল্যবান অকৃষি জমি রয়েছে। এসব স্থাবর সম্পত্তির বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
জামায়াত প্রার্থী আবু নছর মোহাম্মদ মকবুল আহমদ
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু নছর মোহাম্মদ মকবুল আহমদ পেশায় একজন শিক্ষক। ৪৯ বছর বয়সী এই প্রার্থীর বার্ষিক আয় শিক্ষকতা পেশা থেকে ৬ লাখ ৯৫ হাজার ৫২৯ টাকা। তার হাতে বর্তমানে নগদ অর্থ রয়েছে ৩১ লাখ ৭৫ হাজার ৫২৯ টাকা। তার স্থাবর সম্পদের মধ্যে হাজীগঞ্জে একটি ফ্ল্যাট (মূল্য ২২ লাখ ২০ হাজার টাকা) এবং কচুয়ায় ১৫ শতক জমি ও বসতঘর (মূল্য ৩৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা) রয়েছে। তাঁর স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদাউসের নামে কোনো সম্পদের তথ্য হলফনামায় দেওয়া হয়নি।
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য দুই প্রার্থী—বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আনিছুর রহমান এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনও তাদের হলফনামায় নিজেদের লাখপতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে চাঁদপুর-১ আসনে এই চার প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর