খালেদা জিয়া আধুনিক বাজারভিত্তিক অর্থনীতির অন্যতম রূপকার : মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে একজন আপসহীন ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি কেবল গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক নন বরং বাংলাদেশের আধুনিক বাজারভিত্তিক অর্থনীতির অন্যতম রূপকার। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় তিনি এক স্থায়ী ছাপ রেখে গেছেন।
রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের গ্রান্ড বলরুমে সোমবার (৫ জানুয়িারি) বিকেলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিলে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশ এবং ব্যবসায়ীদের আরও ১৭টি সংগঠন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, খালেদা জিয়া দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ভিত গড়েছিলেন। এক্ষেত্রে তার অবিচল নিষ্ঠা, দূরদর্শিতা আর যুগান্তকারী দিকনির্দেশনা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ব্যক্তিখাত ও প্রাইভেটখাতে যে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন, তা বেগম খালেদা জিয়া ধারণ করে নিয়েছিলেন। তিনি ধনী-দরিদ্র কারো কথা ভুলে যাননি। সবাইকে নিয়ে সকলের সামগ্রিক উন্নয়নের পথে দেশকে এগিয়ে নিয়েছেন।
বেগম খালেদা জিয়া প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসা দূরে রেখে সবাই মিলে ঐক্য ও ভালোবাসার মধ্যে দিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের বার্তা দিয়েছেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আমরা যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, খালেদা জিয়া আমাদের কাছে সত্যিকার অর্থেই একজন আইকন। এই নেত্রীর মধ্যে সাধারণ মানুষগুলো বাংলাদেশকে খুঁজে পেয়েছিল। তাদের ভবিষ্যৎকে দেখতে পেয়েছিল। বাংলাদেশকে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বেগম খালেদা জিয়ার অবদানকে কখনোই অস্বীকার করা যাবে না। তিনি কষ্ট করেছেন, জেলে গেছেন। আমি তাঁর কোনো তুলনা খুঁজে পাই না। তিনি একদিকে ছিলেন একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী। আবার একাধারে ছিলেন গোটা জাতির নেত্রী। তিনি কখনো সংকীর্ণতায় ভুগতেন না।
এসময় ৫ আগস্ট পরবর্তীতে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসা দূরে রেখে সবাই মিলে ঐক্য ও ভালোবাসার মধ্যে দিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের বার্তার কথাও তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আজ আর আমাদের মাঝে নেই। তিনি ফিরে আসবেন না। কিন্তু তাঁর যে কাজ, তাঁর যে রেখে যাওয়া স্বপ্ন, সেগুলোকে আমাদের বাস্তবায়িত করতে হবে।
এসময় খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা কবি আল মাহমুদের কবিতা ‘তোমার মুখের দিকে চেয়ে আছে বাংলার ভোরের আকাশ’আবৃত্তি করে শোনান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া সত্যিকার অর্থেই একটি জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আমরা আশা করি, তাঁর এই চলে যাওয়া আমাদেরকে নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে। শোক শক্তিতে রূপান্তরিত করবে। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের এক নতুন ভবিষ্যৎ নির্মাণ করব।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া প্রাইভেট সেক্টর এবং পাবলিক সেক্টরের মধ্যে ‘ইউনিক কম্বিনেশন’সৃষ্টি করেছিলেন। আমি আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে কথাটি বলছি। কারণে উনার সময় আমার কিছুদিন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের সুযোগ হয়েছিল। এবং তখন তার কাছ থেকে আমি যে নির্দেশগুলো পেতাম সেই প্রেক্ষিতে আমি কথাগুলো বলছি।
ড. আব্দুল মঈন খান আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ধনী-দরিদ্র কারো কথা ভুলে যাননি। সবাইকে নিয়ে সকলের সামগ্রিক উন্নয়নের পথে দেশকে তিনি এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। আজকে বেগম খালেদা জিয়া আমাদের মধ্যে নেই। কিন্তু তিনি আপসহীন ও নীতির রাজনীতি সৃষ্টি করে গেছেন। তার ওপর জুলুম, নির্যাতন ও অত্যাচার হয়েছে। কিন্তু তিনি কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন।
স্বাগত বক্তব্য দেন আইসিসিবি সভাপতি মাহবুবুর রহমান। সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ, বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, বিসিআই সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, ওষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি আবদুল মুক্তাদির প্রমুখ।

নিজস্ব প্রতিবেদক