দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কাঁপছে ঈশ্বরদী
পাবনায় কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) ঈশ্বরদীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়।
উত্তরের হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে গোটা জেলা। হাড়কাঁপানো এই শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন। বিশেষ করে পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকা, নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ, ভাসমান ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী পড়েছে চরম দুর্ভোগে।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে আজ ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। তীব্র শীত থেকে বাঁচতে ফুটপাত, রেল স্টেশনের খোলা জায়গায় বসবাসরত ছিন্নমূল মানুষকে খড়কুটো ও আবর্জনা জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। কাজের অভাবে অনেক দিনমজুর মানবেতর জীবনযাপন করছে।
তীব্র শীতের কারণে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপও বেড়েছে। ২৫০ শয্যার পাবনা জেনারেল হাসপাতালে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। শীতের দাপটে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে অবস্থানরত ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ যেন আরও বেড়েছে। গ্রাম ও শহর উভয় এলাকাতেই হাড়কাঁপানো শীতে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
রেলওয়ে বুকিং অফিসের সামনে অবস্থানরত ভাসমান বৃদ্ধ মজিবর বলেন, কম্বল পাইছি ঠিকই, কিন্তু পাতলা কম্বলে শীত ঠেকে না। ঠিকমতো শুইতে পারি না, বসে বসেই কাঁপতে কাঁপতে রাত কাটাই।
ভাড়ারা ইউনিয়নের কামালপুর চররাননীনগর বাসিন্দা আশরাফ আলী জানান, নদীতীরবর্তী এলাকায় বসবাসের কারণে হিমেল বাতাসে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তীব্র শীতের কারণে কাজে যেতে না পারায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন জানান, আজ ঈশ্বরদীতে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সূর্যের দেখা না পাওয়া এবং হিমেল বাতাসের কারণে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে।

এ বি এম ফজলুর রহমান, পাবনা