উত্তরাঞ্চলে হাড়কাঁপানো শৈত্যপ্রবাহ
উত্তরাঞ্চলে বয়ে যাওয়া হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার হাড়কাঁপানো শৈত্যপ্রবাহ ও হিমেল বাতাসে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা আরও বেড়েছে। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ থেকে ১৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ১৪.৭ থেকে ১৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য মাত্র ২ থেকে ৩ ডিগ্রিতে নেমে আসায় শীতের অনুভূতি ও মানুষের ভোগান্তি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
তীব্র শীতের কারণে অধিকাংশ মানুষ ঘরবন্দি থাকতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে; বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার নদীভাঙন কবলিত চরাঞ্চলে স্থবিরতা নেমে এসেছে। সারা দিন সূর্য মেঘ ও কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকায় দিনের বেলাতেও যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতবস্ত্রের দাম গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এরপরও বিপুলসংখ্যক মানুষ ফুটপাত ও অস্থায়ী বাজারগুলোতে পুরোনো গরম কাপড় কিনতে ভিড় করছে। বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশনে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষের উপস্থিতি ছিল খুবই সীমিত। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ, দিনমজুর ও নদীতীরবর্তী চরাঞ্চলের বাসিন্দারা।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আবহাওয়াবিদ মো. মোস্তাফিজার রহমান জানান, আজ এই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার ব্যবধান খুবই কমে গেছে। কুয়াশার কারণে সূর্য দেখা না যাওয়ায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে, যা জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আজ সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়- রংপুরে ১৩.৩ ডিগ্রি, দিনাজপুরে ১২.৪, সৈয়দপুরে ১৩, তেঁতুলিয়ায় ১২, ডিমলায় ১৩, রাজারহাটে ১৩.৪, ঠাকুরগাঁওয়ে ১২.৮, লালমনিরহাটে ১৩.২ এবং গাইবান্ধায় ১৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বিকেল ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল- রংপুরে ১৬.১ ডিগ্রি, দিনাজপুরে ১৪.৭, সৈয়দপুরে ১৬, তেঁতুলিয়ায় ১৬.২, ডিমলায় ১৬, রাজারহাটে ১৬.৪, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৫, লালমনিরহাটে ১৬.৩ এবং গাইবান্ধায় ১৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
প্রচণ্ড শীতে হাসপাতালগুলোতে সর্দি, কাশি, জ্বর ও হাঁপানিসহ বিভিন্ন শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. গাউসুল আজিম চৌধুরী জানান, সরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, শীতার্তদের সহায়তায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে তৎপরতা বেড়েছে। প্রতিটি জেলা প্রশাসন স্থানীয়ভাবে গরম কাপড় কেনা ও বিতরণের জন্য নতুন করে ৪১ লাখ ৮০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ পেয়েছে।
রংপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. গোলাম কিবরিয়া জানান, ইতোমধ্যে ১২ হাজার ৫০০ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে এবং নতুন বরাদ্দের টাকা দিয়ে দ্রুত আরও শীতবস্ত্র কেনা হবে।
কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা মো. আবদুল মতিনও জানান, সেখানে সরকারি ও স্থানীয় তহবিলের মাধ্যমে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং নতুন বরাদ্দ দিয়ে ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান গভীর রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে শীতার্ত ও দরিদ্র রোগীদের মাঝে কম্বল বিতরণ করছেন। এছাড়া উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারাও (ইউএনও) দুর্গম চরাঞ্চল ও গ্রামগুলোতে শীতবস্ত্র বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)