কেরানীগঞ্জে মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ, আটক ৬
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় ‘উম্মুল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র একতলা ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনায় ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। আজ রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম।
তরিকুল ইসলাম জানান, পারভীন বেগমের মালিকানাধীন ওই বাড়িতে বিস্ফোরণের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। আলামত সংগ্রহের জন্য সিআইডির একটি দল রাসায়নিক ড্রাম জব্দ করেছে। জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে এ পর্যন্ত ছয়জনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন- শাহিন ওরফে আবু বক্কর (মুসা ওরফে ডিবা সুলতান), আমিনুর ওরফে দর্জি আমিন, মোহাম্মদ সাফিয়ার রহমান ফকির, আছিয়া বেগম, ইয়াসমিন আক্তার ও আসমানী খাতুন ওরফে আসমা।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে কারা জড়িত তা উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।
এর আগে গত শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় হাসনাবাদ কাঁচাবাজার সংলগ্ন ওই মাদ্রাসায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় চারজন আহত হন। আহতরা হলেন- উমায়ের, আব্দুল্লাহ, রাবেয়া ও সিএনজি চালক জাকির হোসেন।
প্রত্যক্ষদর্শী জাকির হোসেন জানান, বিস্ফোরণের সময় একটি ইটের টুকরো তার মাথায় এসে লাগলে তিনি গুরুতর আহত হন। তাকে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ভবন মালিক পারভীন বেগম জানান, ২০২২ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর মুফতি হারুন নামের এক ব্যক্তি মাদ্রাসা পরিচালনার জন্য এটি ভাড়া নেন। সেখানে আলামিন ও তার স্ত্রী আছিয়া শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কথা শোনা গেলেও ঘটনাস্থলে গিয়ে সিলিন্ডার অক্ষত পাওয়া গেছে। এটি গ্যাস বিস্ফোরণ নয়। ভবনের ভেতরে থাকা কোনো বিস্ফোরক জাতীয় কেমিক্যাল থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্তে র্যাব ও সিআইডির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে জানানো হয়েছে।

দেলোয়ার হোসেন, কেরানীগঞ্জ