যে প্রেক্ষাপটে দেশ ছেড়েছিলেন তারেক রহমান
অবশেষে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অপেক্ষার অবসান ঘটছে। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই বৃহস্পতিবার দুপুরে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দমন-পীড়ন এবং একের পর এক মামলার চাপে ২০০৮ সালে ১১ সেপ্টেম্বর দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। সে সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নই তাকে চিকিৎসার জন্য দেশত্যাগে বাধ্য করে।
‘দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের’ অংশ হিসেবে তৎকালীন সরকার তাকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই ২০০৭ সালের ৭ মার্চ ভোররাতে বাসা থেকে গ্রেফতার করে। রিমান্ডে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। টানা ৫৫৪ দিনের কারাগারে থাকাকালে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে, যার ফলে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে।
চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি লন্ডনে যান। তবে দেশে ফিরে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ না থাকায় এবং রাজনৈতিক মামলার কারণে তিনি বিদেশেই অবস্থান করতে বাধ্য হন।
বিএনপির পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়, তারেক রহমান স্বেচ্ছা নির্বাসনে যাননি। বরং একটি অগণতান্ত্রিক ও দমনমূলক পরিস্থিতি তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছিল। দলটির দাবি, তার বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে ধ্বংস করার অংশ ছিল।
বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তারেক রহমান। বিদেশে অবস্থাকালে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং দলীয় সিদ্ধান্তে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।
এদিকে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের দিনের বিস্তারিত কর্মসূচি জানিয়েছে বিএনপি। আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও তারেক রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন অভর্থ্যনা কমিটির আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি হাসপাতালে তার অসুস্থ মা খালেদা জিয়াকে দেখতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তারেক রহমান সবসময় জনদুর্ভোগ পরিহার করে চলেন এবং এমন কোনো কর্মসূচি সমর্থন করেন না যা সাধারণ মানুষের কষ্টের কারণ হয়। সেই লক্ষ্যেই তিনি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের ভিড় না করতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন, বাংলাদেশেও তার আগমন উপলক্ষে যেন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়। সে বিষয়ে দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। আমরা তার নির্দেশনা পালনের আন্তরিক চেষ্টার পরও সেটা হয়তো শতভাগ প্রতিপালন করতে পারিনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, তিনি (তারেক রহমান) স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন, তিনি বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তার চিকিৎসাধীন গুরুতর অসুস্থ মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে যাবেন। যেতে চান তার পিতা শহীদ জিয়ার মাজার জিয়ারত করতে। যেতে চান ভাইয়ের কবরের পাশে।
কেন তারেক রহমান সরকারি ছুটির দিনে দেশে ফিরছেন— তার ব্যাখ্যায় সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জনদুর্ভোগ পরিহার করতে তিনি তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে সরকারি ছুটির দিন নির্ধারণ করেছেন। এমন একটি দিন নির্বাচন করেছেন যার পরপর দুইদিন সরকারি ছুটি, সব মিলিয়ে টানা তিনদিন ছুটি। তার নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে আমরা রাজধানীর কেন্দ্রীয় কোনো স্থানে যেমন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ আমাদের কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করিনি।
গণঅভ্যর্থনার বিষয়ে সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, সাধারণ মানুষের আবেগ ও তার অনুরোধের কথা মাথায় রেখে অপেক্ষাকৃত কম জনাকীর্ণ এলাকায় তার গণঅভ্যঅর্থনার আয়োজন করা হয়েছে। এটি কোনো জনসভা বা গতানুগতিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান নয়। তারেক রহমান ছাড়া এই অনুষ্ঠানে কেউ বক্তব্য রাখবেন না। বিমান বিমানবন্দর থেকে এভারকেয়ারে যাবার পথে তিনি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন।
নেতাকর্মী ও জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের সকল প্রান্ত থেকে আসা জনস্রোত আটকানো সম্ভব না। যারা আসবেন তাদের প্রতি আহ্বান আপনারা ধৈর্য্য ও শৃঙ্খলা মেনে চলুন। যতটুকু অসুবিধা হবে তার জন্য আগাম দুঃখ প্রকাশ করছি।
বিএনপির এই নেতা জানান, শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বাদ জুমা শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত ও জাতীয় স্মৃতিসৌধ পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন তারেক রহমান। ২৭ ডিসেম্বর এনআইডি কার্ডের জন্য কাজ শেষ করে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করে পঙ্গু হাসপাতাল যাবেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার স্বপ্রণোদিত হয়ে নিরাপত্তা দিচ্ছে। যতটুকু নিরাপত্তা থাকার দরকার সব আছে। সরকারের সকল সংস্থা কাজ করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক