মাসে ২ কোটি টাকার গ্যাস চুরির অভিযোগ, সংযোগ বিচ্ছিন্ন
সাভারে চোরাই বাইপাস লাইন করে রপ্তানিমুখী একটি শিল্প কারখানায় প্রতি মাসে আনুমানিক দুই কোটি টাকার গ্যাস চুরির অভিযোগে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। কারখানায় অভিযান চালিয়ে গ্যাস চুরির বিষয়টি হাতেনাতে ধরেছে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। আজ রোববার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে আশুলিয়ার দক্ষিণ গৌরীপুর এলাকায় মিউচুয়াল অ্যাপারেলসের ওয়াশিং প্লান্টে অভিযান চালায় তিতাসের ভিজিলেন্স টিম।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন তিতাসের গাজীপুর আঞ্চলিক ভিজিলেন্স বিভাগের (সাভার, মানিকগঞ্জ ও আশুলিয়া) ব্যবস্থাপক আব্দুল আলীম রাসেল।
গ্যাস চুরির ঘটনা উদ্ঘাটন এবং কারখানার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিতাসের আঞ্চলিক ভিজিলেন্স বিভাগের (গাজীপুর) উপমহাব্যবস্থাপক আনোয়ার পারভেজ।
এ ব্যাপারে জানতে মিউচুয়াল অ্যাপারেলস ও মিউচুয়াল প্রপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রিয়াদ আরাফাত আমিনের যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কারখানার মানব সম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. মিন্টু কারখানায় তিতাসের অভিযান ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আজ দুপুর থেকে এই কারখানায় অভিযান চলছে। উনারা আমাদের বেশ কয়েকটি চোরা লাইন দেখিয়েছেন। যেখান থেকে গ্যাস চুরি করা হতো বলে তারা আমাদের জানিয়েছে।
অভিযানে উপস্থিত তিতাসের কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক পরিদর্শনে একটি বাইপাস লাইন ও ভূগর্ভস্থ গোপন অবৈধ রেগুলেটিং স্টেশন শনাক্ত করা হয়। এ সময় কর্মকর্তাদের ধোঁকা দিতে কয়লা চালিত বয়লারটি চালু করা হয়। অনুসন্ধান শেষে সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং অবৈধ বাইপাস লাইন খুলে ফেলা হয়েছে।
গাজীপুর আঞ্চলিক ভিজিল্যান্স বিভাগের (সাভার, মানিকগঞ্জ ও আশুলিয়া) ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল আলীম রাসেল বলেন, আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরিমাপ করেছি প্রতি মাসে এই কারখানা থেকে চোরাই লাইন ব্যবহার করে প্রায় দুই কোটি টাকার গ্যাস চুরি করা হতো।
কীভাবে সন্দেহ হলো এবং চুরির বিষয়টি শনাক্ত হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, এই গ্রাহকের যে পরিমাণ বিল আসার কথা দীর্ঘদিন ধরেই তেমন বিল আসছিল না। তাই সন্দেহ হয় এখানে।
পরিদর্শন কালে কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, গ্যাসের প্রেসার কম থাকায় তারা বাইরে থেকে সিএনজি এনে কারখানা চালাচ্ছেন। কিন্তু সিএনজির জেনারেটর কক্ষে গিয়ে দেখা যায় সবকিছু বিচ্ছিন্ন। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায় তারা কয়লা দিয়ে বয়লার চালান। তাৎক্ষণিকভাবে বয়লার পরিদর্শন করে দেখা যায়, বয়লারটি তখনও গরম হয়নি। শুরু হয় অনুসন্ধান। কারখানার পেছনে বিভিন্ন অংশের খোঁড়াখুরি করে পাওয়া যায়, ভূগর্ভস্থ চোরাই গ্যাস লাইন। এ ব্যাপারে তাদের ডেকে এনে বিষয়টি দেখানো হলে কারখানা কর্তৃপক্ষ তিতাসের ভিজিলেন্স টিমকে নানা কৌশলে ম্যানেজ করার চেষ্টা করে।
খবর পেয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে গেলে প্রথমে তাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরে তাদেরও ম্যানেজ করার চেষ্টা চালায় কারখানা কর্তৃপক্ষ।
পরে বিকেল ৫টায় চোরাই এবং আসল দুটি সংযোগই বিচ্ছিন্ন করে অভিযান শেষ করে তিতাসের ভিসিলেন্স টিম।

জাহিদুর রহমান