আমনের ভালো ফলন, কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় হতাশ কৃষকরা
নেত্রকোনার বিভিন্ন উপজেলার ফসলি জমির মাঠ থেকে রোপা আমন ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে ৬০ ভাগেরও বেশি উঁচু জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। এ বছর আমন ধানের ভালো ফলন হলেও ধানের বাজার কম থাকায় অখুশি মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা।
সরকারের ধান-চাল ক্রয় অভিযানের অংশ হিসেবে জেলায় ধান ৩৪ টাকা কেজি ও চাল ৫০ টাকা কেজি দরে এক হাজার এক হাজার ২০০ মণ ধান এবং ২৭ হাজার টন চাল ক্রয়ের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২০ নভেম্বর থেকে এ ধান-চাল ক্রয় অভিযানে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে খাদ্য বিভাগ।
কৃষিপ্রধান নেত্রকোনা আমন মৌসুমে জেলার হাওরবেষ্টিত তিন উপজেলা-মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরি বাদে নেত্রকোনা সদরসহ অপর সাত উপজেলায় এক লাখ ৩৫ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এক লাখ ৪৫ হাজার ৮৪০ হেক্টর জামিতে আমন ধান চাষ হয়। প্রায় চার লাখ ২৫ হাজার ৮৯৫ টন চাল উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে। ধানে যা দাঁড়াবে ছয় লাখ ৪৫ হাজার ২৯৫ টন বলে জানায় কৃষি বিভাগ।
ভালো ফলনে ধান কাটা শ্রমিক এবং হারভেস্টার দিয়ে নতুন ধান কেটে ঘরে আসার এই সময়ে কৃষকদের পাশাপাশি কিষানিরাও ধান সিদ্ধ করা, শুকিয়ে সংরক্ষণ করাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে সমান তালে অংশ নিচ্ছে।
এ বছর জেলায় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা যায়নি। বন্যা বা খড়া শীলা বৃষ্টি না হলেও ভাইরাস ও পোকার আক্রমণে ফসলের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে বলে জানান কোনো কোনো এলাকার কৃষকরা।
আটপাড়া উপজেলার তেলীগাতী গ্রামের কৃষক আবুল মিয়া বলেন, ব্রি-৮৭ ধানের আবাদ করে তিনি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। কারেন্ট পোকার আক্রমণে ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ফলন হয়েছে কম। কাঠাপ্রতি (১০) শতক জমিতে ধান হয়েছে তিন থেকে সাড়ে তিন মণ। অপর দিকে ৪৯ ও ৩২ ধানের ফলন কিছুটা ভালো হয়েছে। কাঠাপ্রতি ৫ থেকে ৬ মণ ধান পাওয়া গেছে।
মদন উপজেলার কদমশ্রী গ্রামের জুয়েল মিয়া এবার আমন ধানের ফলন ভালো হয়েছে বলে জানান। তবে ধানের দাম নিয়ে তিনি খুশি নন। গত বছর এ সময়ে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকায় ধান বিক্রি করেছেন দাবি করে তিনি বলেন, এ বছর ৯৫০ টাকা থেকে এক হাজার টাকার উপর কোনো ব্যাপারী ধান কিনছে না। এ অঞ্চলের অনেক কৃষক পরিবার কৃষির উপর নির্ভরশীল। এতে তারা খুব বেকায়দায় পড়েছেন।
অপর কৃষক ফজর আলী বলেন, সারের দাম, তেলের দাম বেশি। জমি চাষাবাদ করে
আমাদের যে খরচ করতে হয় তাদে ধানের বর্তমান দামে আমাদের পোষায় না। এ
বিষয়ে সরকারকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আমন ধানের দামের বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, মাঠ পর্যায়ে ভেজা ধানের দাম কিছুটা কম থাকে। তবে শুকনা ধানের দাম বেশি পাবে কৃষকরা।
গত ২০ নভেম্বর থেকে সরকারের ধান-চাল ক্রয় অভিযানে শুরু হয়েছে বলে জানান জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মোহতাসেমুর রহমান।

ভজন দাস, নেত্রকোনা