কুষ্টিয়া-২ আসনে শহিদুল ইসলামকে মনোনয়নের দাবিতে ১৮ কিলোমিটার মানববন্ধন
কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক শহিদুল ইসলামকে মনোনয়নের দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় বিএনপি। সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকেলে ভেড়ামারা-মিরপুর উপজেলা ও পৌর শাখা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে এই মানবববন্ধন হয়। কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কে কুষ্টিয়া বাইপাস মোড় থেকে ভেড়ামারা লালনশাহ সেতু পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার জুড়ে এই বিশাল মানববন্ধন হয়। মিরপুর ও ভেড়ামারা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে হাজার হাজার নারী–পুরুষ ব্যানার ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে অংশ নেন। এসময় তাঁরা শহিদুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে নানা স্লোগান দেন।
বিকেল পাঁচটার দিকে শহীদুল ইসলাম ছাদখোলা একটি গাড়িতে মহাসড়ক দিয়ে কুষ্টিয়ার দিকে যান এবং হাত নেড়ে মানববন্ধনে দাড়ানো সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানান। একপর্যায়ে শহীদুল ইসলামের সমর্থকেরা স্লোগান দিতে দিতে মহাসড়কে বিক্ষোভ করেন।
এসময় আন্দোলনকারীরা কুষ্টিয়া-২ মিরপুর-ভেড়ামারা আসনে দেওয়া মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা করে ত্যাগী পরীক্ষিত নির্যাতিত নেতা অধ্যাপক শহিদুল ইসলামকে মনোনয়ন দিতে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের শীর্ষ নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।
মানববন্ধন শেষে কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কের ১০ মাইল এলাকায় সাংবাদিক সম্মেলন করেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ। এসময় মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার টিপু সুলতান বলেন, আমরা ধানের শীষকে সংসদে নিয়ে যাব। কিন্তু এখানে যাকে সম্ভাব্য প্রার্থী করা হয়েছে তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের কোনো নেতা–কর্মীর সম্পর্ক নেই। তিনি ভালো আইনজীবী হতে পারেন, কিন্তু দক্ষ রাজনৈতিক নেতা নন। তাঁকে দিয়ে এই আসনে ধানের শীষের বিজয় আনা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে অধ্যাপক শহিদুল ইসলামের জন্য ধানের শীষের প্রতিকটি ভিক্ষা চান খন্দকার টিপু সুলতান।
ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এই আসনে যাঁকে সম্ভাব্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তিনি সারা জীবন ঢাকায় থাকেন। মিরপুর– ভেড়ামারায় তাঁকে বিএনপির কোনো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি। এমনকি বিগত ১৬ বছরের আন্দোলন– সংগ্রামে তাঁকে এলাকার কোথাও দেখা যায়নি। আমরা মাঠে থেকে আন্দোলন করেছি, জেল খেটেছি, হামলা–মামলার শিকার হয়েছি। তৃণমূলের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট-এই আসনে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হলে শহীদুল ইসলামের কোনো বিকল্প নেই। দলীয় মনোনয়ন তাঁকেই দিতে হবে।
এ সময় মিরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আশরাফুজ্জামান শাহিন, পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুর রশিদ, ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জানবার হোসেন, পৌর বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ডাবলুসহ মিরপুর ও ভেড়ামারা উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
গত ৩ নভেম্বর জাতীয় সংসদের ২৩৭টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে বিএনপি। কুষ্টিয়া-২ আসনে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ব্যারিষ্টার সদস্য রাগীব রউফ চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরপর থেকেই দুই উপজেলার বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও শহীদুল ইসলামের হাজার হাজার সমর্থক আন্দোলন চালিয়ে আসছেন।

সাবিনা ইয়াসমিন শ্যামলী, কুষ্টিয়া